কালুরঘাট সেতু আর দেখা হলো না এমপি বাদলের!

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারলেন না কালুরঘাটের ওপর নতুন সেতু। তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় বহু বছরের পুরোনো ভগ্নদশা কালুরঘাট সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য অসুস্থ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার কাছ থেকে সেতুটি নির্মাণ করা হবে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। আশ্বাসের পরও সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও-মোহরা) এলাকার সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন অন্যথায় সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ১ লাখ ৬৪ হাজার, যেটি কর্ণফুলীর নদীর অপর পাড়ে। আর এসব ভোটারের চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কালুরঘাট রেলসেতু। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই বোয়ালখালী। কিন্তু সেতুটি একমুখী এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৪০ মিনিটের এই রাস্তা পাড়ি দিতে এই এলাকার মানুষদের কখনো কখনো ঘণ্টা তিনেকও লেগে যায়।

ব্রিটিশ আমলে ১৯৩০ সালে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ কালুরঘাট রেলসেতু। ১৯৫৮ সালে সেতুটি সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। ৯০ বছর বয়সি সেতুটি এখন অনেকটাই ভাঙাচোরা। প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে চলছে ট্রেন ও যানবাহন। চট্টগ্রাম নগরীর থেকে বোয়ালখালী উপজেলা এবং পটিয়া উপজেলার তিন ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের জন্য এটিই একমাত্র সেতু। আর দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী ট্রেন চলাচলের জন্যও এই সেতুই একমাত্র ভরসা।

গত ৯ আগস্ট দুপুরে ভারতে চিকিৎসা করতে যাওয়ার আগে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মূলত কালুরঘাট সেতু নিয়ে চিটাগাং ক্লাবের হলরুমে সর্বশেষ মতবিনিময় সভায় এমপি মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘আমি এখন জীবনসায়াহ্নে পৌঁছেছি। গত ১০ বছর কম করে হলেও ২০ বার সংসদে সেতুর কথা বলেছি। এখন কালুরঘাট সেতু (রেলসেতু) যে অবস্থায় আছে, সেটার ওপর দিয়ে মাত্র দুই কি তিনটি ট্রেন চলে। দোহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েল যায় আর একটা প্যাসেঞ্জার ট্রেন যায়, আরেকটা আসে। সেই ট্রেনগুলো মাত্রা আড়াই মাইল বেগে চলে, কখন ব্রিজ ভেঙে পড়বে এই ভয়ে। আমি বলতে চাই, ব্রিজ আর কতটা ভাঙলে নতুন করে বানানো হবে?’

তার পদত্যাগের আগেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী গত ২৭ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সড়ক ভবনে এসে সাতটি প্রকল্পের সঙ্গে কালুরঘাটে দুটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এ কালুরঘাট সেতুর ঘোষণায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কালুরঘাটে দুটি সেতু হবে। রেলসেতু করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সড়ক সেতু করবে আমাদের মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই ঘোষণা সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে। কালুরঘাট সেতুর জন্য জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি দীর্ঘদিনের। কাজেই আমাদের অংশটার কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সেই নির্দেশ দিয়েছি।’

"