শালুকের হাট মাধবপুর

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

শালুকের অন্যতম পাইকারি হাট হবিগঞ্জের মাধবপুর। পানির ওপর ফুটে থাকা জাতীয় ফুল শাপলার দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্য যেমন আমাদের মুগ্ধ করে, তেমনি ওই গাছের গোড়ায় জন্মানো শালুক ভাতের বিকল্প খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়। বর্ষা মৌসুমে হাওড়ের পানিতে জন্মানো শাপলা গাছের গোড়ায় একাধিক গুটি বড় হয়ে শালুকে পরিণত হয়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবারে পার্শ্ববর্তী জেলা মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শত শত মণ শালুক নিয়ে আসে মাধবপুরে। আবার পাইকারদের হাতবদল হয়ে সেই শালুক চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা, সরাইল, ভৈরব, নরসিংদী, চাঁদপুরের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাদের কাছে। গাড়িভর্তি করে নিয়ে এসে বিক্রেতারা প্রতি মণ শালুক এই মৌসুমে দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার বা আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে। এমনই জানালেন শ্রীমঙ্গল থেকে শালুক নিয়ে আসা সাহেদ মিয়া।

তিনি আরো বলেন, মাধবপুরে শালুকের কদর বেশি। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তারা এখানে আসেন শালুক কিনতে। একেকটি শালুকের ওজন ৩০ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক এ সবজিটি কাঁচা খাওয়ার উপযোগী হলেও আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সিদ্ধ করে খাওয়া অত্যন্ত সুস্বাদু। শালুক দ্রুত ক্ষুধা নিবারণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তিও জোগায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. ইশতিয়াক মামুন বলেন, শালুকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা স্নিগ্ধকারক, পিত্ত প্রশান্তিদায়ক, পিপাসা নিবারণ করে। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এলার্জি ও প্রচুর আয়রন থাকায় অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

"