মেডিকেলে ভর্তিতে কারসাজি

খুলনায় কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালক আটক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

খুলনা ব্যুরো

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কারসাজির অভিযোগে খুলনার এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা. তারিম ওরফে ইউনুস খানকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ফুলমার্কেট এলাকায় ডা. তারিমের মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার ‘থ্রি ডক্টরস’-এ অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধসহ সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে খুলনা জেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করেছে। থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারটির বিরুদ্ধেও সে ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

আজ শুক্রবার দেশব্যাপী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা তাদের তৎপরতা ও নজরদারি জোরদার করার কথা সচিবালয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে গত সোমবার জানানো হয়। এ ছাড়া এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আকার আট পৃষ্ঠা থেকে কমে দুই পৃষ্ঠা করার কথাও জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এ বছর প্রশ্নপত্র প্রণয়নে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনার এবং প্রশ্নপত্র পাঠানোর জন্য ট্রাংকের সঙ্গে সংযুক্ত ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকার কথা। সাইবার-ক্রাইম প্রতিরোধ এবং পরীক্ষার আগের দিন রাত ১০টা থেকে পরীক্ষার দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি সীমিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধও করা হয়েছে বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে।

সরকারি মেডিকেল কলেজের ৪ হাজার ৬৮টি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ৩৩৬টিসহ মোট ১০ হাজার ৪০৪টি আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ৯২৮ জন আবেদন করেছেন।

ড. তারিমকে আটকের প্রসঙ্গে খুলনার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য আছে-থ্রি ডক্টরস কোচিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে কারসাজি করে কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে। এর মালিক ইউনুস খান তারিম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার।

গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, জনপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে কারসাজি করে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ব্যাপারে এ কোচিং সেন্টারটি জড়িত। এই ভর্তি-বাণিজ্যের মাধ্যমে বছরে শতকোটি টাকার বেশি অবৈধ লেনদেন চলছে।

 

"