একই রোগের টেস্টে ২ প্রতিষ্ঠানের ২ রিপোর্ট

বিপাকে রোগী ও স্বজনরা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

উল্লাপাড়ায় একই রোগের প্যাথলজি টেস্টে দুই প্রতিষ্ঠান দুই ধরনের রিপোর্ট দিয়েছে। এ রিপোর্টের মধ্যে কোনটা সঠিক, তা বুঝতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- উল্লাপাড়ার তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এবং খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল।

তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের রিপোর্টে রোগী ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। অপরদিকে খাজা ইউনুল আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের রিপোর্টে রোগী ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত নয়। এখন রোগী মো. আমিরুল ইসলাম (২২) ও তার অভিভাবকদের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে কোন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট সঠিক। রোগী আমিরুল ইসলাম বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক বিভাগে চাকরি করেন। এদিকে তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে বলা হয়েছে, তাদের রিপোর্ট সঠিক নাও হতে পারে।

প্যাথলজি রিপোর্ট সূত্রে, গত ৬ অক্টোবর উল্লাপাড়া শ্যামলীপাড়ায় অবস্থিত তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নাগরৌহা গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামের রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো হয়। এ ক্লিনিকে রোগীর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। এ ছাড়া রোগীর প্রস্রাব পরীক্ষায় পাস সেল রিপোর্টে প্লানিটি ও ইপিথেলিয়াল সেলে আট থেকে দশ মাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে।

তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে দেওয়া রিপোর্ট দেখে ডা. ফিরোজ হোসেন তালুকদার রোগীকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন।

এদিকে পরদিন সাত অক্টোবর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে রোগী আমিরুল ইসলামের রক্ত ও প্রস্রব পরীক্ষা করানো হয়। এ হাসপাতাল থেকে দেওয়া রিপোর্টে রোগীর ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া রোগ নেই। এ ছাড়া পাস সেল ও ইপিথেলিয়াল সেল রিপোর্টে মাত্রা এক থেকে দুই উল্লেখ করা হয়েছে। একই রোগীর এমন ভিন্ন রিপোর্টে রোগী এবং তার অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে।

এ বিষয়ে তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের মালিক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিভাইসের কারণে দেওয়া রিপোটর্টি সঠিক নাও হতে পারে। এদিকে রিপোর্টে ক্লিনিকটির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (প্যাথ.) আব্দুর রহিমের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও মালিকের উপস্থিতিতে তিনি এ ধরনের কোনো রিপোর্টে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান। উল্লাপাড়া সদর ৩০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ হোসেন তালুকদার জানান, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়, তা বলা কঠিন। তবে দুটির মধ্যে যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট সঠিক হবে। এ ছাড়া তিনি তামীম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগীকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো. সিহাব উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি জরুরিভাবে তদন্ত করবেন।

 

"