সম্রাটের ক্যাসিনোগুরু আরমান

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরমান আলী। ক্যাসিনো বাণিজ্যের মূলহোতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের শিষ্য। বিদেশের আদলে ঢাকায় ক্যাসিনো গড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মূলত আরমানই। তার কাছ থেকেই সম্রাট আয়ত্ত করেছেন ক্যাসিনো বাণিজ্য।

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আরমানের পুরো নাম এনামুল হক আরমান। বাড়ি নোয়াখালী। আরমানের উত্থান ঘটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে। একসময় সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় লাগেজ আনার ব্যবসা করতেন তিনি। সেই সুবাদে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোর সঙ্গে পরিচয় ঘটে আরমানের। পরবর্তী সময়ে সম্রাটকে এ ব্যবসার ধারণা দেন আরমান।

যুবলীগ নেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক, নারী ও মদে বুঁদ হয়ে থাকেন তিনি। মদ্যপ অবস্থাতেই সম্রাটের সঙ্গে তাকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আরমান। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আরমান ক্যাসিনো ব্যবসার ধারণা দেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও আশপাশে গড়ে তোলা হয় ক্যাসিনো। সম্রাট বাস্তবেই হয়ে যান ক্যাসিনো জগতের সম্রাট। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আরমান এখন সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার। তবে ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট। এ ছাড়া আরমান চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি লগ্নি করেছেন কয়েক কোটি টাকা। নিজেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলেন। ‘দেশবাংলা মাল্টিমিডিয়া’ নামের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন হাউসের প্রধান কর্ণধার আরমান। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ সিনেমাটির প্রযোজক আরমান। এটি আরমানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম ফিল্ম। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে নবাগতা এক নায়িকাকে নিয়ে ‘আগুন’ নামের দ্বিতীয় ফিল্মের কাজও শুরু হয় আরমানের প্রযোজনায়। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে আরমানও গ্রেফতার হয়েছেন।

এর আগে রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপরই ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এই দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

 

"