ফেসবুকে তোলপাড়

‘জানি লাভ নেই তবুও হত্যার বিচার চাই’

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটে) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এই হত্যাকা-ের নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাদের অনেকে স্ট্যাটাসে ক্ষোভ ঝরে পড়েছে। আবরার হত্যায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠী ও শিক্ষকরাও। তাদের অনেকেই ফেসবুকে আবরারের ছবি দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আবরারকে পিটিয়ে হত্যার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন তারা। আবরার হত্যার বিচার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরারের অপরাধটা কী? আমি তো বলব আরেকটা বিশ্বজিতের ঘটনা ঘটল। পার্থক্য হলো বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আর আবরারকে বুয়েটের হলে। এ ছাড়া তো আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। দুজনকেই শিবির সন্দেহে বর্বরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। দুজনই সাধারণ গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা। আচ্ছা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পিটিয়ে ছাত্রহত্যার অধিকার তো কেউ কাউকে দেয়নি। কারো অপরাধ থাকলে পুলিশ, প্রশাসন আছে কেন? আমি বিশ্বজিতের মতো আবরার হত্যারও বিচার চাই। কারা এই হামলাকারী খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’

আবরারের পরিচিত বোস্টন সায়েন্টিফিকের প্রকৌশলী চমক হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লাশ হয়ে গেল বুয়েটের ছেলেটা। আবরার ফাহাদ। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ২০১৭ ব্যাচ। এবার দেশে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল ওর সঙ্গে। বলেছিল, ভাইয়া আমি আপনার স্কুলে ছিলাম কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে, এখন আপনার ডিপার্টমেন্টে। আমার স্কুলের আমার বিভাগের সেই ছেলেটা খুন হয়েছে শেরেবাংলা হলে। সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টার দিকে একদল ছাত্র তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। রাত ২টার দিকে হলের সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে তার লাশ। আমি এই জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার চাই।’

ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজার স্ট্যাটাস ‘বাংলাদেশ ও কাশ্মীরে ভারতের নানা আধিপত্যবাদী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরব ছিলেন আবরার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর্জা তাসলিমা সুলতানা লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টর্চার সেলের এবং ‘মজা করার’ নামে নানান কিসিমের টর্চারের অনুমোদন কি দিয়ে রাখিনি আমরা?!

প্রবাসী ফারাবি মাহমুদ লিখেছেন, ‘আমি ছাত্র থাকা অবস্থায় স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। আমার ইমিডিয়েট জুনিয়র ব্যাচের ছাত্র স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে মারা হলো। আর আমার হলের ছয় বছরের জুনিয়রকে পিটিয়ে মেরেই ফেলল! জানি, বিচার চেয়ে লাভ নাই, তবুও বিচার চাই। চিৎকার করে বিচার চাই।’

 

"