ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। আর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। বৃষ্টিতে ভিজে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে হলের অভ্যন্তরে হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও ক্যাম্পাসে আসেননি বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফর ইকবাল খানকে এ নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন।

ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন ডাকসুর ভিপি ও কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। দুপুর ১২টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বুয়েট অভিমুখে যান শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মেধাবী ছাত্র ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ফাহাদ হত্যার ঘটনায় উত্তাল বুয়েট। ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধারের দাবিতে প্রভোস্টের অফিস ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে এসে ফাহাদের বাবা ও চাচা হত্যার বিচার চেয়েছেন। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় বুয়েটের শেরেবাংলা হলে এসে পৌঁছান বাবা বরকতুল্লাহ ও তার চাচা জহুরুল ইসলাম। সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে কুষ্টিয়ার নিজ বাড়ি থেকে রওনা দেন তারা। সন্তানের ক্যাম্পাসে এসেছেন কিন্তু সেই সন্তান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ ও চাচা জহুরুল ইসলাম তার কথা বলে শুধুই কাঁদছেন। এ সময় চাচা জহুরুল ইসলাম চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে পুলিশের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবরারের চাচা বলেন, আপনারা সত্য কথা লিখলে এবং বললে আবরার সঠিক বিচার পাবে। এরপর তারা হল প্রোভোস্টের রুমে যান। প্রভোস্ট তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

রাবি প্রতিনিধি জানান, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিল থেকে তারা এই হত্যাকান্ডের দ্রুতবিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আমতলা থেকে সোমবার দুপুর ২টার দিকে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা আবরার ফাহাদের হত্যার বিচার চেয়ে সেøাগান দেন। জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ওপর অবস্থান নেন। সেখানে তারা প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেন। জাবি প্রতিনিধি জানান, ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে পরিবহন চত্বর পর্যন্ত সড়কে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়। এর আগে দুপুরে শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী ‘হত্যার’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন তারা।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী, বিএনপি ও বামপন্থি কয়েকজন শিক্ষকসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

জাহঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, শিবির সন্দেহ হওয়ায় আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে? আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, যে সংগঠন এখনো রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় সে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারেন না। নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস তার বক্তব্যে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তির সমালোচনা করেন।

ইবি প্রতিনিধি জানান, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অবরোধের সময় ‘শিক্ষা, সন্ত্রাস একসঙ্গে চলেন না’, ‘আমার ভাই কবরে, সন্ত্রাসীরা বাইরে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্থানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ এমন বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিবহনগুলো যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আহ্বানে বিকালে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে আজ একই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

এ বিষয়ে ইবি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা সাময়িক সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। আমরা বিক্ষোভকারীদের বাধা দেইনি। এই হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

 

 

"