কারাবন্দিদের তথ্য নিয়ে হচ্ছে প্রিজনার ডেটাবেইজ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাগার। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিংবা অভিযুক্তদের পরিবার ও সমাজ থেকে আলাদা রাখার স্থান। উন্নত বিশ্বে একে সংশোধানাগার হিসেবে দেখা হলেও বাংলাদেশে এখনো এটি শাস্তি দেওয়ার মাধ্যম। রাজনৈতিক কারণে এসব কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি বন্দি থাকার রেকর্ডও আছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই কারাগারে কারাবন্দিদের হিসাব রাখা হয় কাগজে-কলমে। এবার আধুনিক ডেটাবেইজ শুরু করতে যাচ্ছে কারা প্রশাসন। যেকোনো কয়েদি কিংবা হাজতি কারাগারে আসার পরেই নেওয়া হবে ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের রেটিনার স্ক্যান। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব ধরনের তথ্যই থাকবে এই ভান্ডারে। এরই মধ্যে কাশিমপুর-২ এবং গাজীপুর জেলা কারাগারে ডেটাবেইজের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করেন, আধুনিক এই ডেটাবেইজ জেলখানায় নানা অবৈধ ব্যবসা বন্ধেও সহায়ক হবে। আধুনিক এই ডেটাবেইজের মাধ্যমে কারা-ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে।

এ বিষয়ে কারা-বন্দিদের জন্য দেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তৈরি করা একটি ডেটাবেইজ উদ্বোধন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত মঙ্গলবার বলেছেন, এই ডেটাবেইজ বিশেষ সুফল বয়ে আনবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিমিনাল ডেটাবেইজ আগে থেকে আমাদের ছিল। পরে ইউএনও-ডিসিরা একটা করতে চান জানালে আমরা সেটা শুরু করি। এই ডেটাবেইজ অনেক তথ্যবহুল। এখানে সব ধরনের তথ্য থাকবে। একজন প্রিজনার জেলে যখন ঢুকলেন তার বয়স কত, কখন ঢুকলেন, কখন কোথায় অসুস্থ হলেন, মেডিকেলে কতদিন ছিলেন সব তথ্য সেখানে থাকবে। এমনকি বিচারে তার কী রায় হলো সেটাও থাকবে।’

এই ডেটাবেইজ সুন্দর রেজাল্ট আনবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানতে পারব প্রিজনারদের অবস্থান সম্পর্কে। এটা একটা ভালো উদ্যোগ তো বটেই। যাতে আমরা উপকৃত হব।

ামাদের ডিসি-ইউএনওরা করে দিচ্ছেন। অর্থায়নও তারাই করছেন। এটার কাজ চলছে দ্রুতই এই ডেটাবেইজের সব কাজ শেষ হযে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। তিনি দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তিদের সতর্ক করেছেন। তিনি কোনো দুর্নীতি বরদাশত করবেন না। যারা অভিযুক্ত হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

কারাগারে যারা আছেন সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সব জায়গাতেই তো দুর্নীতি আছে। আমরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছি না। এটা পরিষ্কার কথা। সে রাজনীতিবিদ হোক, চাকরিজীবী হোক কিংবা সে নির্বাচিত প্রতিনিধি হোক। যেই দুর্নীতি করবেন তাকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কারাগারেও কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকেন তাকেও আইনের আওতায় আসা হবে। শুদ্ধি অভিযান সবসময় চলছিল, এখনো চলছে, বন্ধ নেই এটা চলতে থাকবে।

 

"