টিএসসি-জাদুঘর নতুন করে গড়া হবে

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)Ñ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আরো বড় পরিসরে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অত্যাধুনিক নকশায় এসব স্থাপনা নির্মিত হলে শাহবাগ থেকে ঢামেক পর্যন্ত স্থাপনায় নান্দনিক সৌন্দর্য আসবে। গত বৃহস্পতিবার গণভবনে ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এ কথা জানান। নতুন করে এসব স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই স্থাপনাগুলো হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও নান্দনিক সৌন্দর্যের।

এরই মধ্যে পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি : জরাজীর্ণ টিএসসির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে টিএসসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে। সব মিলিয়ে তখন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪ থেকে ৫ হাজার। এখন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক সংখ্যা মিলিয়ে ৪০ হাজারের ওপরে। টিএসসির সুযোগ-সুবিধা এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টিএসসিকে আরো বড় ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্মিলিত করে দেওয়া হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো, সবাই যেন আরো বেশি খোলামেলা পরিবেশে কাজ করতে পারে। এখনকারটির চেয়ে কয়েকগুণ বড় ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বড় অডিটোরিয়াম, বড় ক্যাফেটেরিয়া করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ : অত্যাধুনিক ও আরো বড় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবন অনেক পুরাতন। সেখানে রোগীর অনেক চাপ। এখানে আধুনিক বিল্ডিং করে দেওয়া হবে, যেন ৪ থেকে ৫ হাজার রোগীকে একসঙ্গে সেবা দেওয়া যায়।

জাতীয় জাদুঘর এবং পাবলিক লাইব্রেরি : নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘর এবং পাবলিক লাইব্রেরি পুরো এলাকাকে একই বাউন্ডারির মধ্যে নিয়ে আসা হবে। এখানে আরো বড় পরিসরে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান বলেন, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় জাদুঘর ও পাবলিক লাইব্রেরি নির্মিত হলে এর নান্দনিক সৌন্দর্য মানুষকে আকর্ষণ করবে এবং আরো বেশি মানুষ এখানে আসতে পারবে এবং আধুনিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ হতে পারবেন। তিনি জানান, সেখানকার পুকুরটিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যেন এটি মানুষকে প্রশান্তি এনে দেয়। টিএসসিতে মেট্রোরেলের স্টেশন করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘিœত হবে এমন কিছু করবে না সরকার। তিনি বলেন, মেট্রোরেল হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির, কম্পিউটারাইজড, ইলেকট্রিক ট্রেন, এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মেট্রোরেল হবে সাউন্ডপ্রুফ। এটা এমন রেল হবে না যে খটর খটর শব্দ করে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করবে তারা কোনো শব্দ পাবে না।

 

"