তিন জেলায় ৩ খুন

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

কুমিল্লার মুরাদনগরে দুর্বৃত্তদের হাতে বালু ব্যবসায়ী, প্রবাসে জমানো টাকা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে স্ত্রী-সন্তানের হাতুড়ির আঘাতে এক প্রবাসীর এবং সিরাজদিখানে তুচ্ছ ঘটনায় মামির হাতে ভাগনি খুন হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে শাহজাহান (৫০) নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ নৌকায় ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাতের কোনো একসময় এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহান উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের সাতমোড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। নিহতের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার পরে শাহজাহান ঘর থেকে বের হয়ে আর ঘরে ফিরেনি। রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তার বালুর ড্রেজারের শ্রমিকরা খোঁজ করতে আসেন। পরে গোমতী নদীতে রাখা বালুর ড্রেজারের নৌকায় তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান শ্রমিকরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

কুড়িগ্রাম : দীর্ঘদিন কুয়েতে থেকে জমানো টাকা নিয়ে বিরোধে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্ত্রী ও তিন ছেলের হাতুড়ির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন নুরু মিয়া নামে প্রবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বন্দবেড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরু মিয়ার স্ত্রী ও তিন ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত নুরু মিয়া বন্দবেড় ইউনিয়নের বন্দবেড় গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন কুয়েতে কর্মরত থাকার পর গত দুই বছর আগে দেশে ফেরেন বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। আটকরা হলো নিহত নুরু মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪৮), ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩০), আবদুল্লাহ (২২) ও আতিকুর রহমান (১৮)। নিহত নুরু মিয়ার ছোট বোন আফরোজা বেগম জানান, জমি-জমা ও টাকা-পয়সা নিয়ে পারিবারিক এই দ্বন্দ্বে এরই পূর্বে স্ত্রী রাবেয়ার ইন্ধনে নুরু মিয়াকে একাধিকবার মারধর করে আহত করেছিল তার ছেলেরা। এ নিয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলাও করেছিলেন নুরু মিয়া। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী আর ছেলেদের হাতেই প্রাণ গেল নুরু মিয়ার। তিনি এ হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত হাতুড়ি জব্দ করেছে পুলিশ।

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে সিরাজদিখানে মামির হাতে ভাগনি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বাহেরকুচি গ্রামে। মামির নাম রহিমা আক্তার (২৮) এবং ভাগনি কলেজ ছাত্রী তাসনিম আক্তার নিপা (১৭)। গত বুধবার রাত ১টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিপার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে নিপার বাবা মো. দীন ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করলে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ঘাতক রহিমা বেগম ও তার স্বামী আবু তাহের পালিয়েছে। জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিপার মা রোমেলা বেগমকে মারধর করে রহিমা আক্তার ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন। এ সময় নিপা তার মাকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গেলে তার মামি রহিমা বেগম কাপড় কাটার ক্যাচি দিয়ে নিপার পেটে আঘাত করে।

এতে গুরুতর আহত নিপাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

"