বিমানে বেড়েছে যাত্রী, ঘাটতি সেবায়

এগিয়ে নেওয়াই চ্যালেঞ্জ : এমডি

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কম সময়ে গন্তব্য পৌঁছাতে উচ্চ ও মধ্যবিত্তের জনপ্রিয় বাহন এখন প্লেন। প্রতি বছরই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ায় মূলত বদলেছে এ চিত্র। তবে ক্রমবর্ধমান হারে যাত্রী বাড়লেও সে তুলনায় বিমানবন্দরগুলোতে বাড়ছে না মানসম্মত সেবা। তাই বিমানবন্দরে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিমানকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন এয়ারলাইনসটির নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার লুকায়িত কিছু নেই। সব তথ্যই স্বচ্ছ, আপনারা তা পাবেন। প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়াই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ গতকাল বুধবার বিকালে বিমানের করপোরেট অফিস বলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিমানে যারা অনিয়ম করবেন, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পরিষ্কারভাবে বলছি, আমার অন্য কোনো এজেন্ডা নেই। সুতরাং বিমানকে লাভজনক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমার মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে বিমানকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এ কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আজ যেভাবে আছি বিমান থেকে যখন চলে যাব তখনো সেভাবেই থাকব।’

আর অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার এত বছরও দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে না। যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বন্ধ হওয়া বিমানবন্দর চালু করা যায়, তাহলে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও হবে বিপ্লব।

অভিযোগ আছে, যাত্রীর চাপ বাড়লেও বাড়েনি বিমানবন্দরগুলোর হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি ও অবকাঠামো সুবিধা। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে যে সিটিং ক্যাপাসিটি থাকা উচিত, সেই সুবিধাও নেই। টার্মিনাল ও লাগেজ সুবিধা বাড়ানো হলে যাত্রীরা মানসম্মত সেবা পাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে যেখানে আকাশপথে যাত্রী ছিল ১৩ লাখ, ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ লাখে। আর ২০১৮ সালে প্রায় ৪০ লাখে গিয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সাতটি রুটে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সব উড়োজাহাজ সংস্থার প্রতিদিন গড়ে ১৯২টি ফ্লাইট চলাচল করে। আর যাত্রী ভ্রমণ করে প্রায় ১০ হাজার।

জানা যায়, সড়কপথে বিড়ম্বনা এড়িয়ে কম সময়ে গন্তব্য পৌঁছাতে যাত্রীরা এখন আকাশপথ বেছে নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি সব বিমান পরিবহন সংস্থা এখন অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বাড়াচ্ছে।

তথ্য বলছে, বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশাল রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও নভোএয়ার। কয়েকটি রুটে দিনে সর্বোচ্চ পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে কয়েকটি এয়ারলাইনস।

বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অ্যাভিয়েশন সেক্টরে সরকারের সুনজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি ফুয়েলের দাম ও এয়ারপোর্ট ব্যবহার চার্জ কমানো হয়, তাহলে খরচ কমবে। ফলে টিকিটের দাম আরো সহনীয় হবে।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মফিজুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

"