বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপ পাচার চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশে এক সময় প্রচুর পরিমাণে কচ্ছপ পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রাণীটি প্রায় বিলুপ্ত। ২০১২ সালে আইন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও থেমে নেই কচ্ছপের অবৈধ শিকার, বিক্রি ও পাচার। ফলে একেবারে বিলুপ্ত হওয়ার হুমকিতে রয়েছে এই সরীসৃপ প্রাণীটি। কচ্ছপ পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে খুলনা। সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ সংগ্রহ করছে একটি চক্র। এরপর তা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। অভিযানে মাঝে মধ্যে কচ্ছপ উদ্ধার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় সুন্ধি, শিলা ও তারকা প্রজাতির কচ্ছপ। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় আটক হয়নি পাচারকারী চক্র। এসব কচ্ছপ ধরা ও পাচার বন্ধ করতে না পারলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি সুন্দরবন থেকেও জেলেদের ধরা কচ্ছপ সংগ্রহ করে পাচারকারীরা। যেগুলো পরে পাচার করা হয় ভারত, চীন, হংকংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এছাড়া সাগর-নদী থেকে ধরা কচ্ছপ মাঝে মধ্যে জেলেরা ফেলে দেয় দুবলার চরের মাটিতে।

খুলনা ও আশপাশের এলাকা থেকে ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ১১০টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ, র?্যাব ও পুলিশ। যেগুলো পরে অবমুক্ত কর হয় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, সুন্দরবন ও প্রকৃতিতে।

জানা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে কচ্ছপ শিকার করা হচ্ছে। দেশেই কিছু মানুষ আছেন যারা কচ্ছপের মাংস পছন্দ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারেও কচ্ছপের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মাংসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবাধে শিকার করে যাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে। ওজন অনুযায়ী এগুলোর দাম নির্ধারিত হয়। দেশের বাজারে ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি ওজনের একটি কচ্ছপের দাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম আরো বেশি।

বর্ষাকালে কচ্ছপ সাধারণত বড় বড় জলাশয়, বিল বা নদীতে অবস্থান করে। কিন্তু বর্ষা শেষে নদী বা বিলের পানি কমে গেলে এরা আশ্রয় নেয় ছোট ছোট জলাশয়ে। সেখান থেকেই শিকার করে রাজধানীর নির্ধারিত কিছু স্থান ও বিদেশি রেস্টুরেন্টগুলোতে বিক্রি করা হয় কচ্ছপ। আরেকটি চক্র আছে যারা শিকারিদের কাছ থেকে কিনে আস্ত কচ্ছপ বা শুধু মাংস যা আলাদা করে দেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দর দিয়ে দেশের বাইরে পাচার করা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, কেবল বাংলাদেশ থেকে কচ্ছপ বিদেশে পাচার হয় এমন না। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও কচ্ছপ বাংলাদেশে আসে। বেশ কয়েক বছর ধরে কচ্ছপ পাচারে বাংলাদেশ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে শিকার হওয়া কচ্ছপের পাশাপাশি ভারত থেকেও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে কচ্ছপ আসে। এগুলো পরে চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে পাঠানো হয়। এসব দেশে খাবার হিসেবে কচ্ছপের মাংসের যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি কচ্ছপের হাড়ের ব্যবহার রয়েছে ওষুধ বানানোর কাজেও।

 

"