বরিশাল নগরীতে সুপেয় পানির ঘাটতি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

মাসুদ রানা, বরিশাল

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) আওতাভুক্ত এলাকায় রয়েছে সুপেয় পানির সংকট, করপোরেশনের বর্ধিত ও বস্তি এলাকায় এই সংকট আরো তীব্র। ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত বরিশাল সিটিতে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বাস, কিন্তু বিসিসির পানির গ্রাহক মাত্র ২২ হাজার। বাকিরা ব্যক্তিগত টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পানির চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। প্রতিদিন এ বিপুলসংখ্যক মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা সাড়ে ৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে বিসিসি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ২ কোটি ৯০ লাখ লিটার। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ২২নং ওয়ার্ড কাজিপাড়া এলাকায় নির্মিত পানির ট্যাংক। এ ছাড়া পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তিনটি পাম্পও বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলে পানির জন্য হাহাকার চলছে বরিশাল নগরীতে।

বিসিসির ৩০নং ওয়ার্ড চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানির গতি কম থাকায় রিজার্ভ ট্যাংকে পানি আসে না। কখনো কখনো সামান্য একটু পানি এলেও তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হয় না। নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের শিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের পানির লাইনে আগে দিনে অন্ততপক্ষে দুবার কিছু সময়ের জন্য আসত। কিন্তু বর্তমানে কখন পানি আসে আর কখন যায় কিছুই বলা যায় না। যতটুকু পানি পাওয়া যায়, তা দিয়ে গোসল, রান্না, কাপড় ধোয়ার কাজও করা যায় না। ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান দুলাল বলেন, আমার ওয়ার্ডের প্রায় ১ হাজার পরিবারের মধ্যে অর্ধেকেরই পানির ব্যবস্থা নেই। অনেকে গভীর নলকূপ বসিয়ে চাহিদা পূরণ করছেন। রাস্তায় যে কল বসানো আছে সেগুলোও বন্ধ হয়ে আছে। তিনি আরো বলেন, কাজিপাড়ার ট্যাংকটির অবস্থাও করুণ। এ বিষয়ে আমি এবং ট্যাংকের দায়ীত্বরত কর্মকর্তারা মেয়র মহাদয়ের কাছে বলার পরে তিনি নিজে এসে পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। নগর ভবনের পানি সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ লোকাল ফান্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। সামান্য টাকায় পুরো নগরীতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এজন্য প্রয়োজন সরকারের আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া। এ ছাড়া এলাকায় নতুন নলকূপ বসাতে গিয়ে পানির স্তর বহু গভীরে যেতে হচ্ছে। নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার জাকির হোসেন জানান, তিন থেকে চার বছর আগেও ৮০০ থেকে ৯০০ ফুট গভীরে গেলেই পানির উৎস পাওয়া যেত। এখন ১ হাজার ফুট পর্যন্ত গভীরে গিয়ে সুপেয় পানি পেতে হয়। ২০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাজ্জাক হোসেন বলেন, সাপ্লাইয়ের পানিতে ময়লা আসার কারণে মাঝে মাঝে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারি না। ভোরে কিছুক্ষণ পানি আসে, তাও ময়লা পানি।’ এই অবস্থায় ভাড়াটিয়াদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা তো টাকা দিয়ে থাকে। পানি না পেলে ভাড়া থাকবে কেন?’ সরাসরি কল থেকে পান করার চল উঠে গেছে অনেক আগেই। এর বদলে বাসাবাড়িতে জ্বালানি পুড়িয়ে পানি ফুটিয়ে ও ফিল্টার করে পানি পান করতে হয়। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমার জানা মতে পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। আর আমরা যে এলাকায় অভিযোগ পাই সেখানেই পরিষ্কার করে থাকি।’ এ ব্যাপারে পানির ট্যাংকের বাল্ব অপারেটর মো. জসিম উদ্দিন জানান, পাম্পের দেখাশোনা ও পাম্প পরিচালনা করার জন্য আমার পরিবারসহ এখানে থাকি, কিন্তু বর্তমানে ট্যাংকটির অবস্থা যে আমরা ঝুঁকিতে রয়েছি।

 

"