শিশু নির্যাতন বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

এক বছরের ব্যবধানে শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৫৩ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৫৭ জন শিশু। আগের বছরের প্রতি মাসে শিশু নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৩৮১ জন।

শিশু নির্যাতন বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা শিশু আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন, ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু শ্রমমুক্ত দেশ গড়ার নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাল্যবিবাহ রোধে প্রণীত আইন, নীতিমালা ও জাতীয় পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে ‘বর্তমান শিশু অধিকার পরিস্থিতি ও করণীয়’ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ আয়োজিত সভায় গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার রাশেদা আক্তার। শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, ককাসের সহসভাপতি অ্যারোমা দত্ত, সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, ওয়াশিকা আয়শা খান ও আব্দুল মজিদ প্রমুখ।

সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৯৭ জন শিশু। ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে ১০৪ জনকে। ১৬১ জনকে যৌন হয়রানি ও ২৮৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ১৩৩ জন। অপহরণ করা হয়েছে ১৪৫ জন শিশুকে। নিখোঁজ হয়েছে ১০৪ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩৯০ জন। পানিতে ডুবে মারা গেছে ৩৯৫ জন শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ৫ বছরের পরিসংখ্যানের বরাদ্দে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার ৯০ শতাংশই শিশু। আর ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুরাই বেশি নির্যাতনের শিকার। ঢাকা জেলার ৫টি নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৫ বছরে (২০০২-১৬) ধর্ষণ সংক্রান্ত ৫ হাজার মামলার বিচারে সাজা হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশের। এ ব্যাপারে ককাসের কাছে বিদ্যমান পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য একটি সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।

"