তাজিয়া মিছিলে হামলা

সাক্ষীতে আটকে আছে বিচার

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

চার বছর আগে আশুরার দিনে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার বিচারকাজ প্রায় এক বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আটকে আছে। গত বছরের ২২ অক্টোবরের পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি নির্ধারিত শুনানির তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ হয় গত বছরের ২২ অক্টোবর। ওই দিন বোমা হামলায় নিহত একজনের সহোদর আবু সাইদ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের নভেম্বর, চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চে বেশ কয়েকটি তারিখ থাকলেও কোনো সাক্ষী আসেনি। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে আজ মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহরে তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ। পর পর তিনটি বোমা বিস্ফোরণে অর্ধশত আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর ও জামাল উদ্দিন নামে একজন মারা যান।

হামলার দুই দিন পর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ। পরের বছর ১৮ অক্টোবর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ; অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি নিহত হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে ঢাকার মহানগর জজ আদালতে গ্রেফতার ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত বছরের ১৪ মে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এই আদালতে সর্বশেষ সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদ। মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, সাক্ষীরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মামলার ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু কেউই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলেননি। এই কারণে আসামিদের আইনজীবী ফারুক আহাম্মাদ তাদের জেরাও করতে চাননি।

বাদী আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করেননি বলে জানান আইনজীবী ফারুক। পরে মামলার ১০ আসামির মধ্যে চারজন জামিন পেয়েছেন। তারা হলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দার লেংগুড়া মধ্যপাড়ার ওমর ফারুক মানিক, একই উপজেলার হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বড়ইতলী গ্রামের শাহজালাল মিয়া এবং গাইবান্ধার সাঘাটার ডিমলা পদুম শহরের চান মিয়া।

কারাগারে আছেন সাঘাটার কচুয়া দক্ষিণপাড়ার কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, বগুড়ার আদমদীঘির কেশরতা গ্রামের মাসুদ রানা মাসুদ ওরফে সুমন, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, দিনাজপুর কোতোয়ালির ঘাসিপাড়ার আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম ইব্রাহিমনগর বালুরমাঠ এলাকার আরমান ওরফে মনির, কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুরের জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মুসায়াব ও দিনাজপুরের রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে সুমন। এদের মধ্যে জাহিদ, আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার নথিতে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিলেন হোসেনি দালানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। বোমা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাহিদ, আরমান ও কবির। কবির ও জাহিদ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। হামলার পর আশ্রয়ের জন্য কামরাঙ্গীরচরে বাসা ভাড়া করেন আরমান ও রুবেল। ঘটনাস্থলে আরমান পরপর পাঁচটি বোমা ছুঁড়েন। বাকি পাঁচজন চান মিয়া, ওমর ফারুক, আহসানউল্লাহ, শাহজালাল ও আবু সাঈদ হামলার চিত্র ভিডিও করা ছাড়াও হামলায় উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেন। আসামি মাসুদ রানারও হামলায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন গাবতলীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে এএসআই ইব্রাহীম মোল্লাকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে গ্রেফতার হন তিনি।

"