ছাত্রের ছেলেমানুষির দোষ গড়াল শিক্ষকের ওপর

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

শ্রেণিকক্ষে নাজমুস সাদিক ওরফে রাফিকে গান গাইতে বলল শিক্ষক দ্বীপেন্দ্রনাথ সরকার। কিন্তু রাফি জানায়, সহপাঠী জান্নাতি গান গাইলে সেও গাইবে। জান্নাতি দুই লাইন গান গাইল। তবে রাফি কথা দিয়েও গান না গাওয়ার বিপরীতে ৩০০ বার কানধরে উঠবস করার কথা ঘোষণা করে নিজেই। হাসি ও দুষ্টুমির ছলে রাফি ৩০ বার কান ধরে উঠবস করে হাঁফিয়ে যায়। কিন্তু সহপাঠীরা নাছোর বান্দা হয়ে তাকে ৩০০ বারই উঠবস করতে হবে বলে জানায়। পরবর্তী সময়ে বিরতি দিয়ে দিয়ে রাফি ৩০০ বার কান ধরে উঠবস করে। এখন এ কান্ডের দায় বর্তেছে ক্লাস শিক্ষক দ্বীপেন্দ্রনাথ সরকারের ওপর।

নাটোরের বড়াইগ্রামের রামাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রাফির মা ও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা খাতুন এ ঘটনার জন্য শিক্ষক দ্বীপেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। রাফি ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র এবং বনপাড়া হারোয়া এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে শিক্ষক দ্বীপেন্দ্রনাথ সরকার উপজেলার বনপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, বুধবার পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় ক্লাসের অংশ হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে গান গাইতে বলেন। এ সময় রাফি জানায়, সহপাঠী জান্নাতি গাইলে সে গাইবে। পরে জান্নাতি গাইলে সে আর গান না গেয়ে স্বঘোষিতভাবে কান ধরে উঠবস করে। কিন্তু রাফি প্রথম ১০ থেকে ১২ বার উঠবস করলেও পরবর্তী সময়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে হাল্কা পা ভাঁজ করে ৩০০ পূর্ণ করে। ক্লাসে এক ধরনের বিনোদনের মতোই সহপাঠীদের সঙ্গে রাফি এটা করে। শিক্ষক দ্বীপেন্দ্রনাথ আরো বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি প্রধান শিক্ষক এ ঘটনায় আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন।

প্রধান শিক্ষক নাজমা খাতুন জানান, তার ছেলেকে নিয়ে এ ধরনের তামাশা করা ওই শিক্ষকের উচিত হয়নি। তিনি ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"