ভয়ে এসআই খায়রুলের নাম প্রত্যাহার করেন সেই গৃহবধূ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোরের শার্শায় দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলা থেকে পুলিশের ভয়ে এসআই খায়রুলের নাম প্রত্যাহার করেছেন বলে দাবি নির্যাতিতা গৃহবধূর। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। গতকাল শুক্রবার নিজ বাড়িতে নির্যাতিতা গৃহবধূ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা প্রায়ই নির্যাতিতার বাড়ি গিয়ে টাকা নিতেন। আতঙ্ক থেকেই খায়রুলের নাম মামলা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন তিনি। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশ জানায়, কয়েক দফা খায়রুলকে উপস্থিত করা হলেও নির্যাতিতা নিজেই নাম বাতিল করে দেন। এদিকে বেলা ১১টায় বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা ওই নারীর বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তারা।

নির্যাতিত গৃহবধূ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বলেন, আমি অসহায়। খায়রুলের নাম বললে যদি আমাকে মামলায় জড়িয়ে দেন সে কারণে আমি ভয়েতে তার নাম বলতে পারিনি। খায়রুল দারোগা এবং তার সঙ্গে যারা অপকর্ম করেছেন তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় আমি এটাই চাই।

শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান জানান, আলামত ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেছিলেন, আলামত ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় সিআইডির ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। এছাড়া বৃহস্পতিবার শার্শার আমলি আদালতে এ ঘটনায় ধর্ষণ অভিযোগকারী নারীর করা মামলায় আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতের আবেদন করা হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদ ভুঁইয়া জানান। আদালত আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এসআই খাইরুলকে প্রত্যাহার করা হলেও তাকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা একজনসহ চারজনকে আসামি করে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার যশোর সদরে হাসপাতালে ৩০ বছর বয়সি ওই নারীর কাছ থেকেই ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকরা জানতে পারেন। তার অভিযোগ, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এসআই খায়রুল সঙ্গে তিনজনকে নিয়ে তার বাড়িতে দরজা খুলতে বলেন। তিনি বলেন, তিনি খাইরুলের সঙ্গে তার গ্রামের দুজনকে দেখে দরজা খোলেন। খায়রুল ও তার শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের কামারুল ঘরে ঢোকেন। মাদকের মামলায় আটক তার স্বামীকে জামিনের বিনিময়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন খায়রুল। তিনি রাজি না হলে বাগ্বিতন্ডার এক পর্যায়ে খায়রুল ও কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় লক্ষ্মণপুর গ্রামের লতিফ ও কাদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে শার্শা থানার ওসি মশিউর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর অভিযোগের পর চারজনকেই তার সামনে হাজির করা হলে তিনি এসআই খায়রুল ছাড়া বাকি তিনজনকে তিনি শনাক্ত করেন।

এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ করেন এলাকার কেউ কেউ। এ দিনই এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহারের খবর জানান যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, অজ্ঞাত ব্যক্তিটি যদি পুলিশও হয় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ওই গ্রামে গেলে দেখা যায়, পুরো গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ দায়ীদের শাস্তিও দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে যশোরের শার্শা উপজেলায় পুলিশ ও সোর্সের ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়েছে নারী ও শিশু রক্ষায় গঠিত বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি করেছেন কমিটির নেতারা। সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুন রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার সকালে নির্যাতিত ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান।

নিপুন রায় বলেন, জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত না হলে কারো নিরাপত্তা থাকে না। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয়করণ করায় কারো জীবনের মূল্য নেই। তাদের সহযোগিতায় মধ্যরাতে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এই প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন সংগঠনের নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুর নাহার পান্না ও স্থানীয় নেতারা।

বিএনপির নেতারা নির্যাতিত গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তা করেন এবং তাকে আইনি সহযোগিতা করার পূর্ণ আশ্বাস দেন। তারা বলেন, এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত এসআই খাইরুলকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে নারীর অধিকার রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

"