অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ঝুঁকিতে কাঁচপুরের ১৫ হাজার শ্রমিক

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি শ্রমিক কলোনিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন ১৫ হাজার শ্রমিক। কলোনির টিনের ঘরের চারপাশসহ মাঝখানেও ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। এতে দুর্গন্ধে তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলা দায় হলেও সেখানেই বসবাস করছেন তারা। কাঁচপুর শ্রমিক কলোনির বাড়ির মালিকপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় এসব শ্রমিকের জীবনযাপন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে জমে থাকা দূষিত পানিতে ভাসছে অসংখ্য মশা-মাছির মধ্যেই চলে রান্নার কাজ। সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। প্রতিকার না পেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপে অনেকে চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য স্থানে। আবার কেউ কেউ চলে গেছেন গ্রামের বাড়ি।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক সোনাপুর এলাকার ১০টি শ্রমিক কলোনিতে বাস করেন। টিনের তৈরি কলোনির এসব ঘরে শ্রমিকরা গাদাগাদি করে কোনো রকমে বাস করেন। প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। স্বল্প বেতনে চাকরি করা এসব শ্রমিক স্বল্প ভাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এভাবেই বসবাস করতে বাধ্য হন।

গতকাল সরেজমিন, সোনাপুরের আমির হোসেন কলোনি, আমজাদ কলোনি, কাদির মেম্বার কলোনি, ফজল খান কলোনি, হাজী করম আলী কলোনি, মোতালিব খান কলোনি ও আশেক আলী কলোনি নামে শ্রমিক কলোনিতে দেখা যায়, এডিস মশার প্রজননের সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে। পুরো কলোনিজুড়ে শ্রমিকদের বসবাসের তৈরি টিনের ঘরের চারপাশে ময়লা, মাঝখানে নালা ও বড় বড় গর্ত রয়েছে। এসব গর্তে রান্নাসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা সব ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আবর্জনায় চারদিকে দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত কালো পানিতে মশা-মাছির বাস। ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধের মধ্যেই চলছে রান্নার কাজ। রান্না করা ভাতের পাতিলের সামনে কুকুর বিড়ালের দৌড়ঝাঁপও দেখা গেছে।

কাঁচপুরের স্থানীয় ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের শ্রমিক রফিক মিয়া ও সাজেদ আলী জানান, কলোনিতে থাকা সব শ্রমিক এখন শুধু ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছেন। আমাদের শ্রমিক কলোনিতে এখন পর্যন্ত কোনো মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি। ঘরের চারপাশে আমাদের গোসলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লাভা থাকার আশঙ্কা করছি। এরই মধ্যে ২৫ জন শ্রমিক ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ভর্তি রয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

আলী হোসেন নামের একজন শ্রমিক জানান, বাড়ির মালিকদের ময়লা আবর্জনার স্তূপ ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরানোর অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। সিনহা গ্রুপের শ্রমিক আবদুর রহমান ও করিম মিয়া জানান, দেশের কোথাও শ্রমিকদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কিনা আমাদের জানা নেই। দ্রুত এসব ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিষ্কাশন করে শ্রমিকদের বসবাসের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ফজল খাঁন কলোনির মালিক বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকি। অনেক লোকের বসবাস। সেজন্য ময়লাও অনেক বেশি। আবারও দ্রুত ময়লা পরিষ্কার করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, কাঁচপুরের শ্রমিক কলোনিগুলো থেকে ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি সরিয়ে ওই স্থানে মশার ওষুধ ছিটানো হবে।

 

 

"