বাগেরহাটে জরাজীর্ণ সোনালী ব্যাংক ভবন

বারান্দায় বসে ব্যাংকের কার্যক্রম, বিপাকে গ্রাহক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তরা খসে পড়েছে বাগেরহাটের সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখার ভবনের। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় লেনদেন প্রায় বন্ধ রয়েছে সেখানে। সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সেবা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই শাখার প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক। চাকরির স্বার্থে কোনো রকম ভবনের বাইরে বারান্দায় চেয়ার-টেবিল নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তবে কবে নাগাদ জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী ওই ভবন থেকে শাখার কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে, তা ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপকও জানেন না। এদিকে ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সোনালী ব্যাংকের ওই শাখার জন্য একটি ভবনও বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে দাফতরিক জটিলতার কারণে ওই ভবনে যেতে পারছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনের বারান্দায় তিন থেকে চারটি চেয়ার ও একটি টেবিল নিয়ে বসে আছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। গ্রাহকরা আসলে কোনো রকম দুই-একজনের টাকা শুধু জমা নিচ্ছেন। কাউকে কোনো পেমেন্ট দিতে পারছেন না। ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের চেয়ারগুলো ফাঁকা, উপরে পানি রোধের জন্য পলিথিন দেওয়া। ব্যবস্থাপকসহ অন্য কর্মকর্তাদেরও চেয়ার ফাঁকা এবং ভবনের উপর থেকে পলেস্তরা খসে পড়েছে। টানা বর্ষণে ওই শাখার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট কোর্ট শাখার ব্যবস্থাপক প্রসুন কুমার রায় বলেন, ভবনের অবস্থা অনেক আগে থেকেই খারাপ ছিল। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কিছুদিন আগে ভারী বর্ষণে ভবনের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা শাহ মো. ইকবালের মোবাইল ভেঙে যায়। সর্বশেষ আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা ভবনের ভেতর ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ করে বারান্দায় টেবিল-চেয়ার নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছি। তবে কবে নাগাদ জরাজীর্ণ এ ভবন থেকে অন্য ভবনে শাখার কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান এ কর্মকর্তা।

 

"