সংসদীয় কমিটির বৈঠক

সাগরের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগানোর তাগিদ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

পৃথিবীর খাদ্য চাহিদার ৭ ভাগ সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে উল্লেখ করে সু-নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মৎস্যসম্পদকে রক্ষার তাগিদ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, সমুদ্রসীমা নিশ্চিত হওয়ায় সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাছ হচ্ছে প্রধান সামুদ্রিক সম্পদ, যা আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটা একটা সু-নীল অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের সু-নীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি বলেন, সু-নীল অর্থনীতির প্রধান খাত মাছকে রক্ষা করতে হবে। ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার সময়কাল সম্পর্কে আরো বেশি প্রচারণা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন প্রচারণা সংস্থা, মৎস্যজীবী সমিতি ও অন্যান্য মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করতে হবে। ডিমওয়ালা মাছ ধরার সুফল এবং কুফল সম্পর্কে সবাইকে বুঝানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রচারণা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে থেকে জানা যায়, বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রাইসুল আলম মন্ডল বলেন, সমুদ্রে অসংখ্য প্রজাতির মাছ রয়েছে। তবে গবেষণায় ৪৩০ প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেলেও খাওয়া যাবে এমন প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণা চলছে। সমুদ্রে প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ রয়েছে, যা আমরা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছি। আমাদের বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য ‘নিষিদ্ধকাল’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে মাছ না ধরার উপকারিতা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বছরে ৬৫ দিন মাছ ডিম দেয়। এই ৬৫ দিন মা মাছ ধরা বন্ধ রাখা গেলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। মাছের প্রায় ৩০ প্রজাতি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ ইলিশকে প্রধান বাণিজ্যিক মৎস্য হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এর ওপর বিজ্ঞানীরা প্রচুর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এর প্রজনন প্রক্রিয়া, সময়কাল ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে স্যাম্পন মাছ ও কড ফিশ।

এরপর সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সমুদ্রসীমা নিশ্চিত হওয়ায় সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাছ হচ্ছে প্রধান সামুদ্রিক সম্পদ যা রক্ষা করতে হবে আমাদের। এটা একটা সু-নীল অর্থনীতি। এই সু-নীল অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর খাদ্য চাহিদার ৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে। সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের জন্য অধিক গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এই মন্ত্রণালয়কে আরো অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন।

তিনি আরো বলেন, মাছ প্রজাতির মধ্যে দুইটি ভাগ রয়েছে। একটি হলো মিঠা পানির মাছ ও অপরটি লোনা পানির মাছ। লোনা পানির মাছ ও মিঠা পানির মাছ নিয়ে ২টি আলাদা বিভাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ২টি বিভাগ নিয়ে আলাদাভাবে গবেষণা করা যেতে পারে। এককভাবে সামুদ্রিক সম্পদ নিয়ে গবেষণা করতে পারলে আরো অনেক সফলতা সম্ভব হবে এবং সামুদ্রিক মাছের ওপর আরো অধিকতর গবেষণা করে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করা সহজ হবে।

এ সময় সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। গত ২ বছর কোরবানির জন্য গরু আমদানি করতে হয়নি। দেশের বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত গরু দিয়েই কোরবানির গরুর চাহিদা মিটানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রচুর গরুর খামার রয়েছে এবং গরু পালন হচ্ছে। দেশি গরুর মাংস স্বাদ বলে এর চাহিদা বেশি। দেশি গরুর উৎপাদন বেশি বিধায় আমদানি করার প্রয়োজন নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও এর বাস্তবায়নে কাজ করছে। ভালো জাতের ষাড় ও গাভী উৎপাদনে প্রচুর গবেষণা চলছে।

দেশীয় গাভী থেকে এখন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

সভাপতি বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কৃষি মন্ত্রণালয় যেভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ায় সেভাবে এই মন্ত্রণালয়কে গরু খামারি, মৎস্য খামারি, মৎস্যজীবীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পাশে দাঁড়ালে তারা আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে এবং উৎপাদনে উৎসাহী হবে। বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য ও ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

 

"