চট্টগ্রামে বাসে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা : চালক ও সহকারী আটক

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে গত কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক ঘটনার পর একা পেয়ে চলন্ত বাসে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ঈদের একদিন আগে গত শনিবার রাতের এ ঘটনায় গৃহবধূর চিৎকারে একটি গরু বোঝাই ট্রাকের চালক বাসটির গতিরোধ করার পর আশপাশের লোকজন ছুটে আসায় তিনি রক্ষা পান। নগরীর কোতোয়ালি থানার এস এস খালেদ সড়কে চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনতা মিলে বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। নগরীর এক নম্বর রুটের বাসচালক রবিউল আউয়াল (২২) ও বাসের হেলপার মো. হৃদয় (২৪)।

গত কয়েক মাসে নগরীতে এ নিয়ে তৃতীয় ঘটনা যা জনসম্মুখে এসেছে। এর আগে নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় বিশ্বাবিদ্যালয় যাওয়ার জন্য বাসে উঠলে একা পেয়ে এক ছাত্রীকে একই কায়দায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। পরে ওই ছাত্রী জানালা দিয়ে লাফিয়ে রক্ষা পান। পরে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের গোচরীভূত হলে ঘটনায় জড়িত গাড়ির চালক, হেলপারকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার শিকার গৃহবধূ মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন, ঈদের একদিন আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলা থেকে তিনি শাহ আমানত সেতু এলাকায় পৌঁছেন। কিন্তু বাসার চাবি বাবার বাড়িতে ফেলে আসায় তিনি দেওয়ানহাটে চাচাতো বোনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বহদ্দারহাটের বাসে উঠেন। বহদ্দারহাটে নেমে তিনি এক নম্বর রুটের বাসে উঠেন, যেগুলো দেওয়ানহাট পার হয়ে গন্তব্যে যায়। বাসটি জিইসি মোড়ে যাওয়ার পর অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যান। এ সময় চালক রবিউল ও হেলপার হৃদয় গৃহবধূকে দেওয়ানহাট মোড়ে নামিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাস চালানো শুরু করেন। কিন্তু বাসটি লালখান বাজার মোড়ে যাওয়ার পর দেওয়ানহাটের দিকে না গিয়ে গতিপথ বদলে কাজীর দেউড়ির দিকে যাওয়া শুরু করেন। গৃহবধূ তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। গৃহবধূর অভিযোগ, তার কথা না শুনে চালক ও হেলপার দ্রুতগতিতে বাসটি চালিয়ে কাজীর দেউড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে যাওয়ার পর বাসের হেলপার হৃদয় তার মুখ চেপে ধরে এবং ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে সিটের ওপর ফেলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূ এ সময় চিৎকার দেন এবং হৃদয়কে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বুধবার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আসামিদের ঘটনার পরদিন আদালতে উপস্থিত করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার সব প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ভাগ্যক্রমে বাসের পেছনেই ছিল গরু বোঝাই একটি ট্রাক। ট্রাকের চালক মহিলার চিৎকার শুনে দ্রুত ট্রাকটিকে বাসের সামনে ঘুরিয়ে নিয়ে গতিরোধ করে। এ সময় গৃহবধূ দ্রুত বাস থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বাসের চালক ও সহকারীকে ধরে ফেলে। পরে টহল পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার শিকার ওই গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে থাকেন নগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায়। তার বাবার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলায় এবং শ্বশুরবাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়।

 

"