পাশে রাশিয়া

আইনি লড়াইয়ে আদালতে যাচ্ছেন আবদুল্লাহ

১৪৪ ধারা শিথিল

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

জম্মু-কাশ্মীর ভাগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে দেশটির প্রতি সমর্থন দিয়েছে পুরোনো বন্ধু রাশিয়া। এদিকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রের সঙ্গে আইনি সংঘাতের রাস্তায় হাঁটতে চাইছে। এদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিরোধিতার পথে হাঁটলেও উপত্যকা ছন্দে ফিরছে ধীরে ধীরে। শ্রীনগরে কার্ফু অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ভাগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বেআইনি বলে দাবি করে গতকাল শনিবার শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স। ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এখন উপত্যকার অসংখ্য নেতার মতোই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়েও অনেক গোপনীয়তা বজায় রেখেছে প্রশাসন। দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতেই ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার পথ বেছে নিয়েছে এনসি বিধায়ক আকবর লোন ও হাসনাইন মাসুদি।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এবার ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরোনো বন্ধু রাশিয়াও। জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান মেনেই জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের স্টেটাস বদল করেছে ভারত। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশকে শান্তি রক্ষার বার্তাও দিয়েছে রাশিয়া। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানসম্মতভাবেই ভারত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করেছে ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, রাশিয়া আশা করে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের পরিস্থিতির অবনতি হবে না।

এর মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেসের পর লাহোর ও দিল্লির মধ্যে চলাচলকারী দোস্তি বাস পরিষেবা বাতিল করেছে পাকিস্তান। দেশেটির মন্ত্রী মুরাদ সাইদ এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাস চলাচল প্রথম চালু হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু ২০০১ সালে সংসদ ভবনে হামলার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে ফের বাস চলাচল চালু হয়। সোম, বুধ ও শুক্রবার দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়াম টার্মিনাল থেকে লাহোরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে দোস্তি বাস। লাহোর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার। এবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিরোধিতার পথে হাঁটলেও উপত্যকা ছন্দে ফিরছে ধীরে ধীরে। শ্রীনগরে কার্ফু অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। সামনে ঈদ, উপত্যকার বাসিন্দাদের ধর্মীয় ভাবাবেগ যাতে ক্ষুণœ না হয় তা দেখা কেন্দ্রের কাছে চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন, বাইরে থাকা কাশ্মীরিরা যাতে ঈদের আগে ঘরে ফিরতে পারেন, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্র। তারপরে শুরু হয়েছে ধাপে ধাপে কার্ফু শিথিল করার প্রক্রিয়া।

গত শুক্রবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুই ভাগ করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। ফলে রাজ্যে ভেঙে তৈরি হচ্ছে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের জন্মদিনে আত্মপ্রকাশ করবে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু ও কাশ্মীরে থাকবে ১০৭ আসনের বিধানসভা। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরে তা বাড়িয়ে ১১৪ করা হবে। ২৪টি আসন খালি থাকবে কারণ তা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পড়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে কোনো বিধানসভা থাকবে না। অনেকটা হবে চন্ডীগড়ের মতো। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আজীবন জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত রাজ্য থাকবে না। লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকবে।

অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক নির্দল বিধায়ক শেখ আবদুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। টেরর ফান্ডিং মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় এ-ই প্রথম কোনো মূল স্রোতের রাজনীতিককে গ্রেফতার করা হলো। উত্তর কাশ্মীরের ল্যাঙ্গেট বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ আবদুল রশিদ। চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই তাকে কয়েক দফায় জেরা করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা; কিন্তু তার জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তার পরেই এনআইএ শেখ আবদুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার করেছে। এনআইএ’র এক সূত্র জানাচ্ছে, জাহুর ওয়াতালি নামে জনৈক এক ব্যবসায়ীকে জেরার সময় রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের নাম প্রকাশ্যে আসে। এই জাহুর পাকিস্তান মদদপুষ্ট জঙ্গিনেতা হাফিজ সইদের থেকে টাকা নিয়েছিলেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি। যে কারণে এনআইএ আগেই তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে ২০১৭ সালেও একবার জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল কাশ্মীরের সাবেক নির্দল বিধায়ক শেখ আবদুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ারকে।

এর আগে কাশ্মীর থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতে ভারত যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ করেন ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পুলওয়ামার পরেও এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এই দাবি উড়িয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে পাকিস্তানই। আন্তর্জাতিক মহল কোনো যুদ্ধ-পরিস্থিতি দেখছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়াতেই ভারত তড়িঘড়ি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, ভারত এমন পরিস্থিতি, ফল্?স ফ্ল্যাগ অপারেশন, তৈরি করতে পারে, যাতে অন্য পক্ষের ওপরে দায় পড়ে। ভারত এখন চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানকে এফএটিএফের কালো তালিকায় তোলার। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমারের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নতুন বাস্তবকে প্রত্যক্ষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুক পাকিস্তান।

 

"