চামড়া পাচার রোধে বাড়ানো হচ্ছে গোয়েন্দা নজরদারি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাঁচা চামড়া পাচার রোধে বাড়ানো হচ্ছে গোয়েন্দা নজরদারি। পাশাপাশি সীমান্তে সতর্ক করা হয়েছে বিজিবিকে। একইসঙ্গে চামড়া বাণিজ্যে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান চামড়ার বাণিজ্যসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি সভা করেছেন। ওই সভায় তিনি চামড়া বাণিজ্যে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় চামড়া পাচার রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাকে।

অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য ৪৫-৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা প্রতি বর্গফুট। বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা প্রতি বর্গফুট হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কোরবানির পশুর চামড়ার বাণিজ্য ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় একশ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ী এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এবার চামড়ার প্রকৃত দাম যাতে বিক্রেতারা পান এজন্য সরকার মূল্য বেঁধে দিয়েছে। এদিকে প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলে একশ্রেণির পাচারকারী সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের মধ্যে মূল্য কম থাকলে ওই চক্র বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনে নেয়। পরে গোপনে সীমান্ত এলাকা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে থাকে।

সূত্র জানায়, পাচারের রুট হিসেবে সীমান্ত এলাকার প্রায় ১০টি পয়েন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে বেনাপোল, সাতক্ষীরার কলারোয়া, জীবননগর, মেহেরপুর দর্শনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সোনামসজিদ, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, জাফলং, তামাবিল ও করিমগঞ্জ। এসব রুট ব্যবহার করেই মূলত চামড়া পাচার করা হয়। তবে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখ। তার মধ্যে গরু ও মহিষ ২ কোটি ৩৫ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ২ কোটি ৫৫ লাখ। এ বছর কোরবানির উপযোগী ১ কোটি ১৭ লাখ পশু রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৭১ লাখ ছাগল ও ভেড়া। গত বছর কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ১১ লাখ পশু। তাই এ বছর কোরবানির পশুর সংকট হবে না। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিজিবির হিসাব অনুসারে, প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ গরু ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০১৪ সালে এসেছে ২০ লাখ ৩২ হাজার। ২০১৫ সালে এসেছিল ২২ লাখ। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছর দেশে দেড় কোটিরও বেশি পশুর চামড়া পাওয়া যায়। এর বড় অংশই আসে কোরবানির পশু থেকে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ খাতের মূল বাজার ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বাজারসহ এ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। এ বছর কোরবানির চামড়া কিনতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক। কোরবানির পশুর চামড়ার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হচ্ছে পুরান ঢাকার পোস্তা। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, পোস্তার ব্যবসায়ীদের এ বছর ৩৫ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। গত বছর পোস্তায় সংগ্রহ করা হয় ৩০ লাখের বেশি পশুর চামড়া। আর ২০১৭ সালে ২৫ লাখ পশুর চামড়া।

"