না.গঞ্জে শিশু ধর্ষণ

মসজিদের ইমামসহ ৬ জন গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

শিশুকে ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চানমারী এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং ধর্ষণে সহযোগিতা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের কথা বলে ফজলুর রহমান ৮ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় ধর্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে র‌্যাব-১১-এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতাররা হলো, ধর্ষক মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার সরাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত রিয়াজ উদ্দিন। সহযোগীরা হলো রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী হবি, মোতাহার হোসেন ও শরিফ হোসেন।

ধর্ষক ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছে। পাশাপাশি একই এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছে সে। সে একটি মাজারেরও খাদেম।

সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন জানান, নির্যাতিত শিশুটি ওই মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটি রাতের বেলায় দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে উঠত। ফজলুর রহমানের কাছে ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া নিতে আসে। ফজলুর রহমানের কথা অনুযায়ী সকালে ভিকটিমের বাবা মেয়েশিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে আসেন। ফজরের নামাজের পর ধর্ষক শিশুটি এবং তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমামের বেডরুমে যায়। এরপর ভিকটিমের বাবাকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এত ভোরে দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা আগরবাতি কিনতে অনেক সময় ব্যয় করে। এর মধ্যে শিশুটির দুই হাত পেছনে বেঁধে ও মুখে স্কস্টেপ মেরে শিশুটিতে যৌন নির্যাতন শুরু করে। প্রমাণ মুছে ফেলতে মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দেয়। এরপর শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা-মাকে না বলার হুমকি দেয়। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। এরপর শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে সবকিছু খুলে বলে। ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভুক্তভোগী পরিবারটি মসজিদে এসে নালিশ জানায়। এতে ক্ষুব্ধ মসজিদ কমিটির সদস্যরা শিশুটির বাবাকে হেনস্তা করে। পরে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গোপনে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবা-মাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকত। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের একজন নার্সের বোরকা পরে গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে র‌্যাব অফিসে এসে অভিযোগ দেন।

ঘটনা শোনার পর র‌্যাব-১১-এর একটি অভিযানিক দল ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার উত্তর চাষাড়া চানমারী এলাকা থেকে ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

"