৩ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বগুড়ার শেরপুরে চরমপন্থী ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলিতে দুজন, যশোরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন ও শেরপুরে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুরে ভবানীপুর বাজারের কাছে দুলুর ব্রিজ নামক স্থানে গত মঙ্গলবার রাতে চরমপন্থি ও ডাকাতদের মধ্যে গোলাগুলিতে এক ডাকাত ও এক চরমপন্থি নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো ডাকাত শ্রী সুকুমার চন্দ্র ওরফে ধনেশ^র (৩৮) ও চরমপন্থি নেতা আফজাল হোসেন (৫৫)।

পুলিশ সূত্র জানায়, শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজারের পূর্ব পাশে দুলুর ব্রিজ নামক স্থানে চরমপন্থি ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর, পুলিশ পরিদর্শক বুলবুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শজিমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তাদের একজনের নাম সুকুমার ওরফে ধনেশ^র। সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাঁচদহ গ্রামে মন্টু সরকারের ছেলে। অপরজন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বামিহাল গ্রামের রজব আলীর ছেলে আফজাল হোসেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান, একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

বগুড়ার শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, দুই দল সন্ত্রাসীর গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। চরমপন্থি নেতা আফজালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতি, অস্ত্র লুট ও অপহরণসহ ২০টি এবং ডাকাত ধনেশ^রের বিরুদ্ধে শেরপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারধরের ১১টি মামলা রয়েছে।

যশোর : যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষ নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের কাজলের ইটভাটা এলাকা থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুরের সরকারি মুরগি ফার্ম এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষকে বোমাসহ আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বের হয়। যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের ভাতুড়িয়ার কাবুলের ইটভাটা এলাকায় পৌঁছলে শিশির ঘোষের বাহিনী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই শিশির ঘোষ নিহত হয়। গোলাগুলি চলাকালে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মনিরুল ইসলাম শিশিরের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, নিহত শিশির ঘোষের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী।

শেরপুর : শেরপুরে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় এই বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার ভোরে শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক যুবক মারা গেছে। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই আরিফুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আহত চার পুলিশ সদস্য শেরপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

"