কুলাউড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

২১ ঘণ্টার মাথায় কুলাউড়ায় আবারও আন্তঃনগর ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে। গতকাল শনিবার সকালে সিলেট থেকে ৭টা ২ মিনিটে ছেড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেসের ট্রেন ৯টা ৪০ মিনিটে সময় কুলাউড়া আউটার সিগন্যালের কাছে লাইনচ্যুত হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কালনী এক্সপ্রেসের ট্রেন আউটার সিগনাল আবারও ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। চলন্ত ট্রেন কাব পয়েন্টে এসে চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়লে ট্রেনের থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একদিনের ব্যবধানে একইস্থানে দুবার ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় রেল মেরামতের লোক দেখানো কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রেনে থাকা যাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। রেল বিভাগের অবহেলা ও চরম গাফিলতির কারণে বার বার ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে এল তারা অভিযোগ করেন।

পৌরসভার বাসিন্দা আতিকুর রহমান আখই ও মামুন রহমান জানান, এই ক্রসিং পয়েন্টের সমস্যা আমরা এলাকাবাসী অনেক আগ থেকেই রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এটি মেরামতের স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। লোক দেখানো ঢিলেঢালা মেরামত করার কারণে প্রতিনিয়ত ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে। ভয়ে মানুষ ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেবে। রেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে কুলাউড়াবাসী আবারও বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন। কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার মো. মুহিব উদ্দিন জানান, কালনী ট্রেনের চাকাটি হঠাৎ করে লাইনচ্যুত হয়। চাকাটি লাইনে তোলা হয়েছে। কেন যে বারবার লাইনচ্যুত হয়েছে তা একমাত্র প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। রাত ১২টা পর্যন্ত রেলের প্রকৌশল বিভাগের লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ করেন। সিগ্যানাল ইন্সপেক্টর বলেন, টাংক রেলটি কিছুদিন আগে নতুন লাগানো হয়েছে এটার কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তাই পুরোনো টাংক রেলটি আবারও লাগানো হচ্ছে। রেলের উপসহকারী প্রকৌশলী সিলেট (পথ) মো. আশরাফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

কি কারণে বার বার ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

উলেখ্য, ১৯ জুলাই শুক্রবার দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এর আগে গত ২৩ জুন রাতে কুলাউড়ার বরমচাল ইসলামাবাদ এলাকার বড়ছড়া ব্রিজে ঢাকাগামী উপবন ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পতিত হলে ঘটনাস্থলে চারজন নিহত হন ও আহত হন শতাধিক।

"