আদালতে জ্ঞান হারালেন নুসরাতের মা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় জ্ঞান হারিয়েছেন তার মা শিরিন আক্তার। গতকাল বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালতের এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় শিরিন আক্তার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও কোর্ট পুলিশ তাকে ধরাধরি করে চিকিৎসার জন্য ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান।

শিরিন আক্তারের জ্ঞান হারানোর খবরে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশনে তাকে দেখতে যান ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী। এ সময় কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিকস সমস্যায় শিরিন আক্তার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।

পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, শিরিন আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ।’

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় শিরিন আক্তারে সাক্ষ্য শুরু হয়। আর বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেরা চলে। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জেরার সময় কয়েক বার রেগেও যান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এ মামলার ১৪নং সাক্ষী শেখ আবদুল হালিম মামুন ও ১৫নং সাক্ষী মো. আবু ইউসুফের সাক্ষ্য নেওয়ার তারিখ ধার্য হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ জানান, গত ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। এ নিয়ে ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।তিনি আরো জানান, গত ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

হাফেজ আহাম্মদ জানান, এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন।

 

"