জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

ইতিহাস বিকৃতির উচিত জবাব দিয়ে গেলেন রুশেমা ইমাম : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

সংসদ সদস্য রুশেমা ইমামের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গতকাল বুধবার শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্য তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। বাজেট আলোচনায় দেওয়া তার বক্তব্যে অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছে। যেটা ইতিহাস বিকৃতকারীদের উচিত জবাব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও শাহাজান খান এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ ও বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। আলোচনা শেষে প্রয়াত সংসদ সদস্যের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদের অধিবেশন বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। সংসদের রীতি অনুযায়ী চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে তার ওপর আলোচনার শেষে ওই দিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়ে থাকে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে কত মানুষের যে ভূমিকা ছিল, তা বলে শেষ করা যাবে না। রুশেমা বেগম ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। এই নির্যাতিত নেতাকর্মীরা যাতে মূল্যায়িত হয়, একটু স্বস্তি পায়, আমি সেটা চেষ্টা করি। তিনি বলেন, রুশেমা বেগম অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। একটা যুগে মেয়েদের লেখাপড়া করা কঠিন ছিল, তিনি সেই সময় লেখাপড়া করেছেন। তিনি শিক্ষিকা ছিলেন। আমি বাবা, মা, ভাই সব হারিয়ে যখন দেশে ফিরি তখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও তার সহচর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। রুশেমা বেগম এবং তার স্বামী ইমাম উদ্দিন ছিলেন তাদের অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রুশেমা বেগম কখনো বলেননি আমার জন্য কিছু কর। উনি কখনো কিছু চাননি। নির্বাচনের আগে একদিন তিনি আমার সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কিছু কথা বলতে এসেছিলেন। তখন আমার বোন রেহানা বলল উনাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি করতে হবে। আমি বলেছিলাম করা হবে। নির্বাচনের পর উনাকে বলেছিলাম একটা ফরম নিয়ে পূরণ করে দেন। এতে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি বাজেট অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বক্তব্য দিলেন, সেটা ঐতিহাসিক তথ্য। যারা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্ত ছাড়ায় তাদের জন্য একটা সঠিক জবাব দিয়েছিলেন। এটা ইতিহাস হিসেবেও সংসদে সংরক্ষিত থাকল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রয়াত রুশেমা ইমাম অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ২০০ বছর আগে নারীদের জন্য বেগম রোকেয়া যে কাজটি করেছিলেন, এই সময়ে এসে রুশেমা সেই কাজটি করেছেন। তিনি সারা জীবন নারী মুক্তি ও নারী শিক্ষায় নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীন দেশে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনে বিশেষভাবে কাজ করেছেন। মানুষ ও মানবতার জন্য কাজ করার কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজনীতিতে ইমাম উদ্দিনের পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রবীণ সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সেই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের পরিবারের ঝুঁকিতে থাকত। সেই ঝুঁকির মধ্যে আওয়ামী লীগের আদর্শে অটল ছিলেন রুশেমা ইমাম। শত অত্যাচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে। বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা যতই কমে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ততই দুর্বল হচ্ছে।

প্রয়াত সংসদ সদস্য রুশেমা ইমামকে মহীয়সী নারী আখ্যায়িত করে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় ছিল ওই বাড়িতে। কেন্দ্রীয় নেতারাও যেখানে আশ্রয় নিতেন।

পেশায় প্রধান শিক্ষক এই নারীকে সম্মানিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি অনেক অজানা তথ্য আমাদের জানিয়ে গেছেন।

সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইমাম উদ্দিন আহমেদ ও রুশেমা ইমাম দুজনই বঙ্গবন্ধু খুবই ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। যে কারণে বঙ্গবন্ধু রুশেমা ইমামকে নারী পুনর্বাসনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। বিনিময়ে তিনি সম্মানও পেয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, রুশেমা ইমামরা যখন কাজ শুরু করেছেন তখন তাদের পথ ছিল কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। স্বামীকে জেলখানায় রেখে একদিকে স্কুল, অন্যদিকে পরিবার সামলেছেন তিনি। অথচ সব সময় সাধারণ জীবন-যাপন করেছেন তিনি।

শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবামূলক কাজে তৃণমূলে রাজনীতি করা এই সংসদ সদস্যের অবদানের কথা তুলে ধরেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নির্যাতিত নারীদের জন্য রুশেমা ইমাম যা করেছেন তা আমাদের অনন্তকাল মনে রাখতে হবে।

 

"