সিভিল সার্জনের পুকুর চুরি অবশেষে মামলা

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

খুলনা ব্যুরো

মিথ্যা দরপত্র ও রশিদ দেখিয়ে ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন। দুদকের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে সমন্বিত জেলা কার্যালয়েই মামলা করা যাবে। এ বিধিমালা অনুযায়ী, সেখানে প্রথমবারের মতো মামলা দুটি করা হলো। একই দিন গ্রামীণ ব্যাংকের ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক জ্যেষ্ঠ কেন্দ্র ব্যবস্থাপক কে এম মশিউর রহমানের নামে আরো একটি মামলা হয়েছে। এ মামলার বাদী খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ অন্য আসামিরা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতির কোনো চাহিদাপত্র না থাকা সত্ত্বেও দরপত্র আহ্বান, সংগ্রহ, মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ দিয়ে তিনটি মিথ্যা বিলের বিপরীতে মোট ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিভিল সার্জন অফিসের স্টোরকিপার এ কে এম ফজলুল হক, হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, আবদুর ছাত্তার সরকার, আসাদুর রহমান, কাজী আবু বকর উদ্দিন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশলের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস।

অন্যদিকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর শাখার জ্যেষ্ঠ কেন্দ্র ব্যবস্থাপক ছিলেন কে এম মশিউর রহমান। সেখানে তিনি ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন কেন্দ্রের সদস্যদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি, ডিপিএস ও এককালীন ঋণের টাকা আদায় করে ব্যাংকে জমা না রেখে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মশিউর রহমান।

দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী খুলনাতেই মামলা নিয়েছি। এখন ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান বিভাগ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তদন্ত শেষে বিশেষ জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল হবে।

 

"