নারায়ণগঞ্জে ১০ দিনে ২৩ শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আবদুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় ১০ দিনে শিক্ষার্থীসহ ২৩ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নামধারী শিক্ষকদের লালসার শিকার হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিশুমনে পড়ছে খারাপ প্রভাব। অভিভাবকদের মনে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। গত ২৭ জুন, সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাইস্কুলে আপত্তিকর ছবি তুলে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগে স্থানীয় দুই শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। পরে র‌্যাব ও পুলিশ তাদের গ্রেফতার এবং শিক্ষকের কাছ থেকে সেসব আপত্তিকর ছবি উদ্ধার করে। গ্রেফতার দুই শিক্ষক হলেন আরিফুল ইসলাম, যিনি অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণে বাধ্য করত। সে সময় বিক্ষুব্ধরা লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়। গত ৪ জুলাই, মাদরাসার ১২ জন মাদরাসাশিক্ষার্থী শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক মাওলানা মো. আল আমিনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন মাহমুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই মাদরাসাশিক্ষককে আটক করে র‌্যাব। কিছু দিন আগে সিরিয়াল রেপিস্ট আশরাফুল আরিফকে গ্রেফতারের ঘটনায় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি সংবাদের ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে দেখতে পেয়ে গত দুই দিন আগে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী এবং তার মা র‌্যাবকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষককে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাদরাসাশিক্ষক মাওলানা মো. আল আমিন মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি ফতুল্লা এলাকায় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র?্যাব।

র‌্যাব জানায়, আল আমিন এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং তিনি বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ান। তিনি মাদরাসার একটি রুমে তার পরিবার নিয়ে থাকতেন এবং একটি অফিস কক্ষসহ কয়েকটি ক্লাসরুমে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াতেন। তিনি তার স্ত্রীর অবর্তমানে ছাত্রীদের নানা ছুতোয় যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করতেন। তার ডেক্সটপ কম্পিটার থেকে প্রচুর পর্নোগ্রাফি পাওয়া গেছে। তার কাছে পড়তে আসা ছাত্রীদের ছবির মাথার অংশটা নিয়ে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সংযুক্ত করে সে ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার ধর্ষণে বাধ্য করত। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। এদিকে গত ৫ জুলাই, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেয়ে ঢাকার উত্তর মুগদা মদিনাবাগের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং হেলেনা বেগম (৪২) নামে জড়িত একজনকে আটক করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরীর দুলাভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ চক্রের এজহার নামীয় সাতজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃত হেলেনা বেগম পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানাধীন উত্তর মিঠাখালী গ্রামের তাহের মৃধার মেয়ে এবং বাবুল সরদারের স্ত্রী। পলাতক অপর আসামি মনির হোসেন জামাল (৩৮) বরগুনার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের উলা পদ্মা (বাবুগঞ্জ) গ্রামের ইউসুফের ছেলে।

পলাতক মনির হোসেন এ চক্রের মূল হোতা বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেভাবে শিক্ষকরা প্রতারণা করে ছাত্রীদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলছেন এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমাদের সন্তানদের নিয়ে ভয়ে থাকতে হয়।

তিতাস গ্যাস আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাত হোসেন বলেন, শিক্ষকতা পেশা একটি মহান পেশা এই পেশার নাম ভাঙিয়ে যে শিক্ষকরা মেয়েতুল্য ছাত্রীদের ধর্ষণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন শিক্ষক নামের ওই প্রতারকরা। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

"