পুলিশের ওপর হামলা ও পিস্তল ছিনতাই

দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে একটি রিভলবার ও ১০ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার ৩ ঘণ্টা পর রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষের লোকজনকে থামাতে গেলে পুলিশের ওপর এই হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নাজিরপুর ইউপির বড় ডালিমা গ্রামের হাকিম হাওলাদার গংদের সঙ্গে একই বাড়ির কামাল হোসেন গংদের সঙ্গে ১৯ একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে ওই বিরোধীয় জমিতে কামাল হোসেন গংরা প্রায় ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে যায়। হাকিম হাওলাদার গংরা জমি চাষে বাধা দিতে গেলে তাদের জমির কাছে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। হাকিম হাওলাদার এ ঘটনা বাউফল থানাকে জানালে ঘটনাস্থলে এএসআই মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে তিনজন পুলিশ ঘটনাস্থানে গেলে কামাল হোসেনের পক্ষের ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় এবং তার সঙ্গে থাকা মৃত আবদুল আলীর ছেলে ফিরোজ হাওলাদার এএসআই মাঈনুদ্দিনের কোমর থেকে ১০ রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা অভিযানের পর ফিরোজ হাওলাদারের ঘরের পেছনের একটি নারিকেল গাছ থেকে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্য সেরাজ হাওলাদার (৬০), আবু বকর (২৫), মাকসুদা বেগম (৩৫) সহিদুল (১৮), বিউটি বেগম (৪৫), হালিম হাওলাদার (২০), অলিল (১৫), মনোয়ারা (৭০), নাজমা (৩৫), ইমরান (২০), কামাল (৪৫), আলম (৫২), মকবুল (৬০), দুলাল (৩৫), নিলুফা (৪০) ও নূরভানু (৫৫) আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং চারজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত এএসআই মাইনউদ্দিন, কনস্টেবল লক্ষণ ও কনস্টেবল এমরানকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাউফল থানা পুলিশ দুলাল হাওলাদার, নাজমা, নূর ভানু, মিজান, রত্তন কামাল ও মনোয়ারাসহ আটজন পুরুষ ও মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মঈনুল হোসেন বলেন বিরোধপূর্ণ জমিতে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় সরকারি কাজে বাধাদান ও অস্ত্র লুটের আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

"