‘রং না দেখে’ অপরাধীকে গ্রেফতারে নির্দেশ মমতার

প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

অপরাধীদের ধর্মীয় রং না দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কলকাতার মুসলিম নাগরিকদের একাংশ। অনুরোধপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ৫০ জন বিখ্যাত মুসলিম নাগরিক। চিঠিতে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত চিকিৎসককে নিগ্রহ এবং দ্বিতীয়টি রাতের কলকাতায় প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ঊষসী সেনগুপ্তের ওপরে হামলা। দুটি ক্ষেত্রেই জড়িতরা ঘটনাচক্রে মুসলিম। এতে তারা বিব্রত বলে জানিয়েছেন ওই বিখ্যাত মুসলিম নাগরিকরা। চিঠিটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেট সাংবাদিক মুদার পাথেরিয়ার। চিঠিতে লেখা হয়েছে, এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো, ধর্ম না দেখে অপরাধীদের কড়া সাজা দেওয়া। মুসলিম বলে এরা যাতে ছাড়া না পায়, তা নিশ্চিত করা। কেননা রাজ্য সরকার মুসিলমদের তোষণ করছে বলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস যে মুসলিমদের কোনোভাবেই আড়াল করছে না, তা এভাবেই প্রমাণ হবে।

এ অবস্থায়, রং না দেখে গ্রেফতার করুন, যাকে যাকে প্রয়োজন গ্রেফতার করুন। তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। ভাটপাড়ায় বৃহস্পতিবার গুলিতে তিনজনের মৃত্যুর পর শান্তি ফেরাতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভাটপাড়ায় অশান্তির পেছনে রয়েছে বহিরাগতরা। ভাটপাড়া ও জগদ্দলে স্থানীয় সমাজবিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার নতুন থানা উদ্বোধনের আগে ফের নতুন করে অশান্তি ছড়ায় ভাটপাড়ায়। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ভাটপাড়া। থানার ২০০ গজের মধ্যে চলে বোমাবাজি। শূন্যে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গুলিতে নিহত রামবাবু সাউ ফুচকাওয়ালা ও সন্তোষ সাউ মিষ্টির দোকানের কর্মচারী। এ ঘটনার পরপরই নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে ভাটপাড়ার ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন অচলাবস্থা কাটছে না ভাটপাড়ায়, জরুরি বৈঠকে প্রশ্ন করেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। অশান্ত ভাটপাড়ায় শান্তি ফেরাতে অস্ত্র উদ্ধারে স্পেশাল ড্রাইভ চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। এরপরই স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকার ব্যারাকপুর পুলিশ ভাটপাড়া ও জগদ্দলে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভাটপাড়া ও জগদ্দল থানা এলাকায় জারি করা হচ্ছে ১৪৪ ধারা। এডিজি সাউথ বেঙ্গল সঞ্জয় সিংকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ তদারকি ভার দিয়ে ভাটপাড়ায় পাঠানো হচ্ছে।

অন্যদিকে ভাটপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। একই সঙ্গে তদন্তের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা। চারজন মানুষ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

মুকুল রায়ের দাবি, বারাকপুরে লোকসভা ভোটে হারার পর যেনতেন প্রকারে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই গুলি চালিয়েছে তারা। ভাটপাড়া নিয়ে সংসদ সদস্য অর্জুন সিংয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে মুকুলের। বিজেপি নেতা বলেছেন, অর্জুন সিং সংসদে রয়েছেন। ওখান থেকে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

 

 

"