‘ভাড়াটে খুনি’ ও ছিনতাইকারী চক্রের তিনজন গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেউ-ই কলেজের গণ্ডি পেরোয়নি। তবে টেনেটুনে এসএসসি পাস। দরিদ্রতার কারণে পড়াশোনা ছেড়ে কেউ বাসের হেলপার, কেউ মিস্ত্রি, কেউবা বেকার। শুধু মাদক গ্রহণই নয়, কেনাবেচায়ও সিদ্ধহস্ত উত্তরার ব্ল্যাক শাহিন গ্যাং। এই গ্যাংয়ের হাতে সম্প্রতি খুন হন সাকিব হোসেন (২০) নামে এক যুবক। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাকিবের বন্ধু শিপন মিয়া (১৯)।

গত ১৫ জুন উত্তরখানে ছিনতাই করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় ওই দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করে ব্ল্যাক শাহিন ও তার ৫-৬ জন সহযোগী।

এ ঘটনায় মামলা হলে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। পরে সোমবার রাতে উত্তরা থেকে অভিযান চালিয়ে মূল হোতা শাহিন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহিন (২৪) ওরফে ব্ল্যাক শাহীন, মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪) ও ফরহাদ হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, উত্তরখানের নদীর পাড় বাটুলিয়া এলাকায় বেড়াতে যায় দুই বন্ধু সাকিব ও শিপন। কতিপয় ছিনতাইকারী সাকিবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং তার বন্ধু শিপনকে গুরুতরভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা সাকিব হোসেনের বুকে ও পিঠে ধারালো ছোরা (সুইচ গিয়ার) দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত এবং শিপনের পিঠে গুরুতর জখম করে। পরে হত্যাকা-ের ঘটনায় উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। সাকিব ও শিপন দুজনেই উত্তরায় দুটি পোশাক বিক্রির দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। দুজনই পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, হত্যাকা-ের পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরখানের বাটুলিয়া থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার (ছোরা) জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা।

র‌্যাব-১ আরো জানায়, উত্তরায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি। তা ছাড়া ছোট ছোট কারণে খুনের মতো ঘটনাও ঘটছে। উত্তরায় নানা শ্রেণির মানুষের বসবাস। সেখানে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের আনাগোনার কারণে অপরাধপ্রবণ মানুষের সংখ্যাও বেশি। উত্তরখানে ঘুরতে আসা লোকদের অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার ছিনতাই করা চক্রটির পেশায় পরিণত হয়েছিল। তারা ভাড়ায় খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

 

"