লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর

আবার কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে মমতা

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

আবার কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর একই দিনে কংগ্রেস মোক্ষম বার্তা দিয়েছে। রাহুল এবং সোনিয়া গান্ধী নিজেদের বাদ দিয়ে লোকসভার দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাংলার অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থেকে নির্বাচিত পাঁচবারের সাংসদ অধীর প্রথমদিন থেকে বলে আসছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতার অপশাসন ঠেকাতে কংগ্রেসকে বামেদের হাত ধরতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রবল বিজেপি ঝড়ের মধ্যে একা লড়ে জিতে এসেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

এদিকে ফের কেন্দ্রের বৈঠকে গরহাজির থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবার সংসদ ভবনে সব দলের সভাপতিদের নিয়ে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তাতে তিনি যোগ দিতে পারছেন না। এক দেশ, এক নির্বাচন, এই নিয়ে আলোচনার জন্য ১৯ জুন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি জানিয়েছেন, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রতিনিধি সব দলের সভাপতিকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওই বিষয় ছাড়াও বৈঠকে ২০২২ সালে দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উদ্?যাপন, চলতি বছর মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।

কেন্দ্রকে দেওয়া চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না। এক দেশ এক নির্বাচনের মতো বিষয়ে এত কম সময়ের নোটিসে তড়িঘড়ি আলোচনা করাও যথার্থ হবে না বলে চিঠিতে মতপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। লিখেছেন, এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সর্বোপরি সব দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। কেন্দ্রের প্রস্তাব মতো অ্যাসপিরেশনার ডিস্ট্রিক্টের উন্নয়নে রাজ্য সরকার রাজি নয় বলেও চিঠিতে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এতে সব জেলার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আর সরকার সব জেলার সমান সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মমতা। এর আগে গত ১৫ জুন সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নীতি আয়োগের বৈঠকেও যোগ দেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৭তম লোকসভায় বাংলার বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মঙ্গলবার থেকে সংসদে কংগ্রেস দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসতে শুরু করেছেন। লোকসভায় তার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়েছে ইউপিএ চেয়ারপারসন সনিয়া গান্ধীর। লোকসভায় প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে গেলেও দলনেতা নির্বাচন নিয়ে রোববার পর্যন্ত কোনো পাকা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সংসদে দলনেতা হওয়ার দৌড়ে গত কয়েক দিনে শোনা গেছে বেশ কয়েকটি নাম। এর মধ্যে অধীর রঞ্জন চৌধুরী ছাড়াও উঠে এসেছিল শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারি ও কেরালার কংগ্রেস সভাপতি কে সুরেশের নাম। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছেন বহরমপুরের সাংসদই। জানা গেছে, বহু প্রতীক্ষিত কংগ্রেসের কৌশল নির্ধারণ সভায় অধীরকে লোকসভা দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তার মা তথা ইউপিএ চেয়ারপারসন সনিয়া গান্ধী। এদিনই লোকসভায় চিঠি মারফত দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী বৈঠকে এ ছাড়া আলোচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতি নিয়ে। এখনো পর্যন্ত বাস্তবিক, যুক্তিনির্ভর ও আইনি পরিপ্রেক্ষিত থেকে এই নীতির কঠোর বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস।

"