অগ্নিঝুঁকি কমেনি পুরান ঢাকায়

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকের দানা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন সায়ানাইড। এতে বাতাসের সঙ্গে এই গ্যাস ছড়ানোর কারণেই মৃত্যু হতে পারে যে কারো। কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে ২৯টি দাহ্য পদার্থের তালিকায় নেই প্লাস্টিকের দানা। এতে নিমতলী ট্র্যাজেডির পর এক দশকেও অগ্নিঝুঁকি কমেনি পুরান ঢাকায়। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের এক দশক পর ২০১৯ সালে পুড়ে ছাই হয় চকবাজারের চুরিহাট্টা। কেবল রাসায়নিকের গুদাম নয়, লাইটার, পারফিউম রিফিল ও দাহ্যজাতীয় পদার্থের মজুদও পুরান ঢাকায় বারবার আগুনের অন্যতম কারণ। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংকীর্ণ রাস্তা আগুন নেভানো ও উদ্ধার কাজের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।

ফলে পুরান ঢাকার অলিগলি রূপ নিচ্ছে মৃত্যুপুরীতে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরান ঢাকা থেকে ২৯টি দাহ্য পদার্থ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তালিকায় নেই প্লাস্টিকের দানা বা দাহ্য কাঁচামাল। অথচ প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকের দানা তৈরিতে ব্যবহৃত মূল কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম হওয়ায় এবং পেট্রোলিয়াম দাহ্য পদার্থ হওয়ায় অগ্নিকান্ডে বাতাসের সংস্পর্শে এসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে মিশে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করে। যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে সমর্থ হওয়ায় আগুন নেভাতে পানি বা বালু কোনোটিই কার্যকর নয়, বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগ। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ঘনবসতিপূর্ণ ও সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কারখানা বা গুদামের জন্য অনুপোযুক্ত এলাকাটি।

এদিকে দিনে দিনে পুরান ঢাকার চাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে কারখানা ও গুদামের সংখ্যা এবং বৈদ্যুতিক তারেরও ব্যবহার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় পুরান ঢাকার ধরন অনুযায়ী পরিকল্পনার তাগিদ সব মহলের।

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা থেকে অভিজাত ঢাকার বনানী-গুলশান কোনো এলাকা নিরাপদ নয়। রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ তদারকি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অনীহা-এসব কারণে পুরো ঢাকা এখন অগ্নিঝুঁকিতে। ঢাকার নিম্নবিত্তদের বাসস্থান বস্তি বরাবরই আগুনের ঝুঁকিতে। মধ্যবিত্ত কিংবা অভিজাত কোনো আবাসিক এলাকাই ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেগাসিটি ঢাকা একটা অপরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এখানকার মালিকরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভবন বানিয়েছেন। বিল্ডিং কোড, নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না মেনেই বছরের পর বছর এখানে গড়ে উঠছে ভবন। শুধু ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন নয়, সরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলোতেও নেই অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ন্যূনতম ব্যবস্থা।

বিশ্বে আধুনিক যে নগরায়ণ হচ্ছে সেখানে ভবনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। যাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই নিভিয়ে ফেলা যায় আগুন। ঢাকার মতো জনবহুল ও যানজটের নগরে সেটা আরো জরুরি। কেননা কোথাও আগুন লাগলে সেখানে পৌঁছতেই ফায়ার সার্ভিসের অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। হাইড্রেন্ট ও জলাশয় না থাকায় অগ্নিনির্বাপণে পানির ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতনরা বলছেন, রাজউকের যেভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আছে ফায়ার সার্ভিসের সেভাবে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় তারা উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন।

 

 

"