সম্মানী ভাতা স্থগিত : সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের নিরানন্দ ঈদ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

তালিকা যাচাই-বাছাই অসম্পূর্ণ থাকার কারণে জেলার সব মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই এবার নিরানন্দ ঈদ কেটেছে সিরাজগঞ্জে বহু মুক্তিযোদ্ধার। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের নামে ভাতা বন্ধের ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ৩০০ থেকে এখন ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসহ আরো মৌলিক চাহিদা পূরণ হতো। সত্তর ছুঁই ছুঁই বয়সে এমন ভাতা পেয়ে তাদের যারপরনাই উপকার হতো। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় যাচাই-বাছাইয়ের রায় ঘোষণার আগেই ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের রায় প্রকাশের আগেই সম্মানী বন্ধ করায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পড়েছেন বিপাকে। যদিও যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়াদের আপিলের পরামর্শ দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আপিলের ফলাফলও প্রকাশ হয়নি। গত ২০১৭ সালের ২৯ আগস্টে, ঈদুল আজহার আগে ওই সম্মানী ভাতা বন্ধ করা হয়। স্থানীয় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে তারা এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পায়। কিন্তু এবার ঈদের আগে তাদের ভাতা আবার বন্ধ করা হয়। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সর্ব শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। জান যায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের উল্লেখ আছে, যারা বেসামরিক গেজেটভুক্ত, তারা ভাতা পাবেন।

ওই পত্রের সঙ্গে আপিল দায়েরের ফর্মও সংযুক্ত দেখা যায়। অপর এক পত্রে ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তিবার্তা ছাড়া অন্য সব গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা/পোষ্যদের কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে কিছু শর্ত দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে গ্রহণকৃত সব সুযোগ-সুবিধা প্রত্যার্পণ করতে বাধ্য থাকবে।

এসব শর্তে রাজি হয়ে এসব মুক্তিযোদ্ধা জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা ইউনিট কমান্ড সিরাজগঞ্জ বরাবর আবেদনও করেন। কিন্তু উপজেলা কমান্ডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদাসীনতায় এই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধাদের।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহায়তায় সদর উপজেলার রতনকান্দি গ্রামের গাজী আকবর হোসেন, বাবা এমতাজ উদ্দিন গত ৩০ মে থেকে ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে, যা সব মুক্তিযোদ্ধাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য, যাচাই-বাছাইয়ে বাদপড়া জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবাইকে ভাতা প্রদানের কথা স্বীকার করেন।

 

"