ড্রেনের গ্যাস বিস্ফোরণে আহত ৪

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর কুমদিনী র‌্যালি বাগান এলাকায় সুয়ারেজ ড্রেনে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণে ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন হযরত আলীর ছেলে রাব্বী (১২), খোকন মিয়ার মেয়ে মরিয়ম (১১), স্বামী বাবু মিয়ার স্ত্রী লাকি (৪০) এবং শাহালমের স্ত্রী রিনা (৪০)। বিস্ফোরণে ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে ম-লপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রেনের বিষাক্ত গ্যাসের আগুন নেভায়। আহতদের তাৎক্ষণিক ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানান, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পূর্ব পাশ থেকে শুরু করে কুমুদিনী বাগান পর্যন্ত ড্রেনের স্লাব উঠে যায় ও রাস্তার কিছু অংশেও ফাটল ছিল। সকালে হঠাৎ সুয়ারেজ ড্রেনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের একেবারে কাছে থাকা রাব্বীসহ আরো তিনজন আহত হয়। রাব্বীর ডান পা আগুনে পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা হয়তো তিতাসের গ্যাস পাইপ লিকেজ হয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, এটি ড্রেনে বিষাক্ত গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে মনে করছি। আমরা আসার পরও ড্রেন থেকে গরম ধোঁয়া উঠতে দেখেছি।

গ্যাসের পাইপ লিকেজ হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, এই বিস্ফোরণ তাদের গ্যাস পাইপ থেকে ঘটেনি। তাদের পাইপে কোনো সমস্যা নেই বলেও তারা নিশ্চিত করেন।

তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির উপসহকারী প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন যখন সুয়ারেজের কাজ করে তখন তারা কোনো ধরনের ছিদ্র রাখে নাই, যাতে বাতাস বের হতে পারে। যার ফলে বিভিন্ন গ্যাস জমে থাকার ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে গেছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা লোক দিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেছি কোনো ধরনের গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় নাই এবং গ্যাসের পাইপ পুড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জেলার উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফীন জানান, সুয়ারেজ ড্রেনে বদ্ধ অবস্থায় বিষাক্ত গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো বাতাস বের হওয়ার জায়গা না থাকায় বদ্ধ সুয়ারেজ ড্রেনে হাইড্রোজেন সালফাইট ও সালফার ডাই অক্সাইড তৈরি হয়। এখানে অ্যামোনিয়াও সৃষ্টি হতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের প্রবল ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে এ রকম বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি সচরাচর সেপটিক ট্যাংকে থাকে। কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে ঢুকলে এতে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আগে ভাগে এসব গ্যাসের উপস্থিতি টের পাওয়া মুশকিল।

 

"