পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচন

ব্যালট যাচ্ছে ভোটের ৪ দিন আগেই

কোনো অনিয়ম মানা হবে না : ইসি রফিকুল

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চারদিন আগেই এলাকায় যাচ্ছে ব্যালট ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী। তবে কোনো উপজেলায় প্রার্থী জটিলতা থাকলে ব্যালট পেপার বিতরণের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। এদিকে, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ হুশিয়ারি দেন। বন্দর উপজেলা হল রুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় যদি কেউ প্রভাব বিস্তার করে তবে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটও যদি কোনো ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ পন্থায় জড়িয়ে পড়েন তাহলেও নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সেক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসারসহ সবাইকে সব রকমের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বন্দর উপজেলা নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম প্রমুখ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ। তবে নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও পুরুষ ভাইস চেয়াম্যান পদে নির্বাচন হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কারণ পৌরসভার কেন্দ্রগুলো শহর এলাকায় হয়ে থাকে। আর যেসব এলাকায় ভোটে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাবে সেখানেও ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠাবে কমিশন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের কয়েকটি ভোটেও সকালে ব্যালট পাঠিয়েছিল কমিশন। তবে উপজেলা নির্বাচনে কিছু এলাকার দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে আগেই ব্যালট পাঠাতে হয়।

সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন শেষে ইসির সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা রোধের জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া যেসব এলাকায় কেন্দ্র কাছাকাছি, সেখানে সকালে ব্যালট পেপার পাঠাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনগুলোয় সকালে ব্যালট পেপার পাঠাব। এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব। তাই সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এমনকি নির্বাচনী মালামাল নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সকালে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। তাকে রাতে কেন্দ্রে থাকার প্রয়োজন হবে না।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পঞ্চম ধাপের ভোটের বিষয়ে তেমন বিশৃঙ্খলার তথ্য নেই। আর এই ধাপে এরই মধ্যে দুইটি উপজেলায় সব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। আর বাকি উপজেলাগুলোতেও তেমন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তাই চার দিন আগেই এসব এলাকায় ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা শাখা-২) ফরহাদ আহম্মদ খান বলেন, নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যালট নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার পর শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয় থাকে। এছাড়া নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যালট নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যালট নির্বাচনী এলাকায় আগে চলে গেলেও ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে বলেও জানান তিনি। আগামী ১৮ জুন ২৩টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি উপজেলায় সব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২১ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

"