দারুল ইহসানের সনদে ফের শিক্ষকের এমপিও

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী ঢাকা অঞ্চলের তিন শিক্ষক এবং একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক এমপিও পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের স্থগিতাদেশের পর এদের এমপিও দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে মাউশির ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই তো এমপিও দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া শিগগিরই স্থগিতাদেশটি প্রত্যাহার করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের রায়ের পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী প্রায় ৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এমপিও দিতে আদেশ জারি করা হয় ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত না নেওয়ার কারণে আদেশটি পরদিন ২৯ আগস্ট স্থগিত করা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এ কারণে আগে নিয়োগ পাওয়া এবং পরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩ হাজার শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থাগারিককে এমপিও দিচ্ছে না মাউশি। শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিকরা অনলাইনে এমপিও আবেদন জানালে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসগুলো তাদের আবেদন বাতিল করে। তবে যেসব শিক্ষকরা তদবির করতে পারছেন অথবা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও আঞ্চলিক অফিসগুলোকে ম্যানেজ করতে পারছেন তারা এমপিও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ১ হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। গত ২৯ আগস্টের ওই স্থাগিতাদেশের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষকদের এমপিও আবেদন বাতিল করলেও ঢাকার আঞ্চলিক অফিস চারজনের এমপিও আবেদন গ্রহণ করেছে। এর ফলে মাউশি গত মে মাস থেকে তিনজন শিক্ষক ও একজন সহকারী গ্রন্থাগারিককে এমপিওভুক্ত করে। গত মে মাসের তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার এনএএম পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন, ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল হাসান এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের বিইউকে ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদ হক শেখ। এছাড়া ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক সাবিনা ইয়াসমিনকেও মে মাস থেকে এমপিও তালিকাভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বলেন, এরা পুরাতন শিক্ষক, আর সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোড পরিবর্তন করে এমপিও দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী গ্রন্থাগারিককে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ অর্জন সাপেক্ষে এমপিওর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, কোড পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে এমপিও দেওয়া বা নতুন করে কোনো শিক্ষককে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ বিদ্যালয় পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না।

প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ বলেন, আমি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার হাজি ইমদাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক ছিলাম। জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমাকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। এমপিওভুক্ত করতে আমার বেতন কোড পরিবর্তন করারও প্রয়োজন হবে না। একই কোডে দেওয়া সম্ভব। অথচ অন্যদের বেতন কোড পরিবর্তন করে এমপিও দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির এই দ্বৈতনীতির কারণে আমার মতো অন্য শিক্ষকরাও মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

 

"