এটিএম বুথে জালিয়াতি

৯ বুথ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছে চক্র

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) জালিয়াতি করে বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের নেপথ্যের কারিগরদের আজও শনাক্ত করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। জালিয়াতির ঘটনায় ইউক্রেনের ছয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হলেও অভিযানের সময় ভিতালি ক্লিমচাক নামে একজন পালিয়ে যায়। তার ইউক্রেনের পাসপোর্টসহ (নম্বর এফই ৮০৪৪৪৮) বিস্তারিত তথ্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সরবরাহ করেছেন তদন্তকারীরা। এখন পর্যন্ত ভিতালির দেশ ছাড়ার তথ্য ছিল না ইমিগ্রেশনে। এ কারণে তদন্তকারীদের ধারণা, স্থানীয় সহযোগীদের আশ্রয়ে লুকিয়ে আছে সে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি বুথে জালিয়াতি ধরা পড়লেও পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে জালিয়াতচক্র ৯টি বুথ থেকে ১৪ লাখেরও বেশি টাকা তুলে নিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ছয় ইউক্রেনীয়র কাছে থেকে কোনো টাকা উদ্ধার না হওয়ায় তদন্তকারীরা অনেকটাই নিশ্চিত, ওই জালিয়াতিতে সাত ইউক্রেনীয় ছাড়াও আরেকটি দল আছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র্রে এটিএম বুথে ‘জেক পর্টিন সিস্টেম’ নামে নতুন ধরনের এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এর সূত্র ধরে তদন্ত করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গ্রুপ ‘হিডেন কোবরা’ জড়িত বলে শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তদন্ত সংস্থা। ‘ফাস্টক্যাশ ক্যাম্পেইন’ নামে চালানো ওই জালিয়াতির আগাম তথ্য বাংলাদেশের পুলিশকেও জানায় মার্কিন সংস্থাটি। গত ৩০ মে বাংলাদেশে আসা সাত ইউক্রেনীয়র ঈদের ছুটিতে বুথে রাখা বেশি পরিমাণে টাকা হাতিয়ে ৬ জুন ভারতে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

দেশীয় সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি হিডেন কোবরার নেটওয়ার্কও বের করার চেষ্টা করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তকারীরা। এজন্য তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছেন।

বিশ্বের ৮০ শতাংশ এটিএম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনসিআরের সহায়তাও নিচ্ছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিষ্ঠানের মেশিনই দেশীয় পরিবেশকের মাধ্যমে নিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।

এদিকে ইউক্রেনের নাগরিকরা রুশ ভাষা জানে। ফলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোভাষীও সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৩ জুন ছয়জনের তিন দিনের রিমান্ড (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) মঞ্জুর হলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এখন পর্যন্ত তাদের রিমান্ডে নেয়নি ডিবি।

 

"