নির্বিঘ্নে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় গতকাল রোববার সকাল থেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রেন ও নৌপথে গতকাল ছিল ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড়। এ তিন পথে কোনো রকম বিড়ম্বনা ছাড়াই ফিরছে তারা।

গতকাল সরেজমিন রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়। নির্ধারিত সময়ের দু-এক ঘণ্টা পর ট্রেন এলেও মধুর স্মৃতি নিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের চোখে-মুখে ছিল স্বস্তি। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাদের অধিকাংশই চাকরিজীবী।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামের সুবর্ণ এক্সপ্রেস, দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস, নোয়াখালীর উপকূল এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেস, রংপুরের রংপুর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জের মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ছাড়াও ২০টির বেশি ট্রেন কমলাপুরে পৌঁছেছে। দিনাজপুর থেকে আসা একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী মোহাম্মদ হানিফ শিকদার বলেন, ‘নির্ধারিত ছুটির পর আর কোনো অতিরিক্ত ছুটি পাইনি। তাই কর্মস্থলে যোগ দিতে চলে আসলাম।’ তিনি বলেন, প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো ঈদের ছুটিগুলো কম মনে হলেও তাদের সুখকর স্মৃতিগুলো কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা বাড়াবে।

সুন্দরবন এক্সপ্রেসে খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছেন মো. হাফেজ মোহাম্মদ সেলিম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা চার ভাই একসঙ্গে বাড়ি গিয়েছিলাম। তিনজনই চাকরি করি। এক ভাইয়ের ইসলামপুরে কাপড়ের দোকান। নিজের ব্যবসা বলে সে আরো চার-পাঁচ দিন পর আসবে। আমরা চাকরি করি, তাই আগে চলে আসতে হলো।’

তবে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে ঘুরে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। ঢাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন ঈদের ছুটি শেষে কুমিল্লা থেকে ঢাকা এসেছেন।

তিনি বলেন, টিকিট পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি। ভালোভাবেই এসেছি। রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না, দ্রুত আসতে পেরেছি। মহাখালী বাস টার্মিনালেও একই অবস্থা দেখা গেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হুমায়ুন কবির কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ঈদ উদ্যাপন শেষে ঢাকায় ফিরেছেন নির্বিঘেœ।

গাবতলীতে গাইবান্ধা থেকে আসা এসআর ট্র্যাভেলসের যাত্রী নুর আলম হোসেন বলেন, ‘যাত্রাটা তেমন খারাপ ছিল না। রাস্তায় তেমন যানজটও ছিল না। তবে কয়েকটি জায়গায় বাস থেমে থেমে চলেছে। যমুনার টোলপ্লাজায় সময় একটু বেশি লেগেছে। এ ছাড়া পথে তেমন সমস্যা হয়নি।’ একই অবস্থা নৌপথেও। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতেও ছিল কর্মজীবী মানুষের ভিড়।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকায় ফেরার চাপ এই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে। তবে ঈদের ছুটি শেষে সবাই ঢাকায় ফিরতে শুরু করলেও অনেককেই আবার ছুটি কাটাতে রাজধানী ছাড়তে দেখা গেছে। যারা ঈদে ছুটি পাননি, তারা ঈদের পঞ্চম দিন ছুটি নিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। কমলাপুর ও গাবতলীতে এমন অনেককেই অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া ও রাজধানীতে ফেরার জন্য যানজট নিরসনে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন সব মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

একই সঙ্গে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িও বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীতে এখনো সিএনজি ও রিকশার সীমিত চলাচল লক্ষ করা গেছে। নগর পরিবহনের অনেক বাস-মিনিবাস দূরপাল্লার যাত্রায় ঢাকা ছেড়েছে। সেগুলো এখনো ঢাকায় ফিরেনি। বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনে যাত্রীরা নেমেই রিকশা ও সিএনজি সংকটে পড়েন। যেসব রিকশা-সিএনজি পাওয়া গেছে, তারা দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া মিটিয়ে তবেই গন্তব্যে গেছে।

 

 

"