প্রি-পেইড মিটার নিয়ে খুলনায় জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় ‘প্রি-পেইড মিটার নিয়ে জনমনে ক্ষোভ, সমাধানে ওজোপাডিকোর নেই কোনো উদ্যোগ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নাগরিক সংগঠন জন-উদ্যোগের উদ্যোগে মহানগরের বিএমএ ভবনের সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, এর আগে হাতিয়ে নেওয়া ২০০ কোটি টাকার ১ শতাংশ রিবেট বাবদ দুই কোটি টাকা ফেরত চায় খুলনাবাসী। অন্যথায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ দেওয়ার উদ্যোগকে ভেস্তে দেওয়ার হীন মানসিকতায় ওজোপাডিকোতে এখন অনেকটা প্রকল্প বাণিজ্য চলছে। একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কোনো কাজে আসছে না, বরং কোম্পানির হাতে গোনা কিছু কর্মকর্তার পকেট ভারী হচ্ছে। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে কোম্পানির খরচ বাড়তে বাড়তে এক দিন তা গ্রাহকদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর মধ্য দিয়ে। বিএমএ খুলনার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।

জন-উদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেনের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতা শেখ মহিউদ্দিন ও শাহীন জামাল পন, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান পারভেজ, জাসদ নেতা খালিদ হোসেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, নাগরিক নেতা মাসুদ মাহমুদ, আব্দুল হালিম, সৈয়দ ইমাম হোসেন বাচ্চু, সেলিম, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এইচ এম আলাউদ্দিন, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত রুমি প্রমুখ।

বক্তারা ওজোপাডিকোর প্রি-পেইড মিটারের তুঘলকী কারবারসহ বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, ফ্রি প্রি-পেইড মিটার দেওয়ার কথা বলে এখন মাসে ৪০ টাকা করে ভাড়া কাটা হলেও তা কত দিন নেওয়া হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ ছাড়া ওজোপাডিকোর এমডি গ্রাহকবান্ধব নয়, উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তিনি সপ্তাহের পাঁচ দিন থাকেন ঢাকায় আর বন্ধের দুই দিন খুলনায় অবস্থান করেন। এতে গ্রাহকরা যেমন তার সঙ্গে অফিশিয়ালি যোগাযোগ করতে পারেন না, তেমনি তিনি সরকারি মোবাইলটিও অধিকাংশ সময় রিসিভ করেন না। খুলনা ও ঢাকায় একাধিক গাড়ি ব্যবহার, বিদেশ ভ্রমণ, ওজোপাডিকোর সদর দফতরকে গ্লাসরুমে আবদ্ধ করে রাইফেলধারী আনসার দিয়ে অনেকটা সিংহাসন বানিয়ে রেখেছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

গ্রাহকরা প্রি-পেইড মিটার নেবে, না পোস্ট-পেইড নেবে, সেটি গ্রাহকদের নিজস্ব অধিকার উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ওজোপাডিকোর অনেক কর্মকর্তার বাড়িতে এখনো প্রি-পেইড মিটার না বসানোই প্রমাণ করে যে, এ মিটারে দুর্নীতি আছে। এ ছাড়া চীন একটি ব্যবসায়িক দেশ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তারা কোনোক্রমেই চাইবে না যে, বাংলাদেশ ভালো মিটার উৎপাদন করুক। যে কারণে ওজোপাডিকো চীনের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় জিরো পয়েন্টের কাছে মৃধা কমপ্লেক্সে যে মিটার তৈরির কারখানা করছে সেটিও আর একটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারখানা বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। আবার ওই কোম্পানির বড় পদটি দখল করে আছেন ওজোপাডিকোর কোম্পানি সচিব।

সব মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রি-পেইড মিটারসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠে এ মতবিনিময় সভা থেকে।

সভার প্রধান আলোচক রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, সার্বিক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসিকে চিঠি দেওয়া, ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি ও বিইআরসি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খুলনায় গণশুনানিসহ প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুলনাসহ পদ্মার এপারের ২১ জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তবে এজন্য খুলনার জনসাধারণকে অংশগ্রহণমূলক এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

সভার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত মতামত জানাতে সোমবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় বিএমএ মিলনায়তনে পরবর্তী সভা আহ্বানের কথা উল্লেখ করে ওই সভায় খুলনার বিদ্যুৎ গ্রাহক, নাগরিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

 

"