ফের সক্রিয় হিযবুত তাওহীদ আতঙ্কে গ্রামবাসী

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০

সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তাওহীদ সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের আনাগোনায় গ্রামবাসী আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হিযবুত তাওহীদ নামক সংগঠনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কালো তালিকাভুক্ত। গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে সংগঠনটি। যেকোনো সময় এ সংগঠনটি নিষিদ্ধ হতে পারে। জঙ্গিবাদী তৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

২০০৯ সালে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক দেখে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ সংগঠনটির এমাম উপজেলার পোরকরা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মুদি দোকানদার হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হিযবুত তাওহীদের সদস্যরা প্রায় ২০০ গ্রামবাসীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১৪০ জন হিযবুত তাওহীদের নারী-পুরুষ সদস্যকে আটক করে। তাদের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মুখোশ, ছোরা, গান পাউডার উদ্ধার করে।

২০১৪ সালে গ্রামবাসী ও হিযবুত তাওহীদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে হিযবুত তাওহীদের ২ সদস্য ও ১ গ্রামবাসী নিহতসহ অন্তত ৫ শতাধিক লোক আহত হয়। পরে হিযবুত তাওহীদের সদস্যরা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ও কোর্টে প্রায় ৫ হাজার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ প্রায় ৭টি মামলা দেয়। এ মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামের হাজার হাজার নিরীহ জনগণ এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় পোরকরা গ্রামের কয়েকজন জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ গ্রামে হিযবুত তাওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে হিযবুত তাওহীদ সংগঠিত হয়। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকজনকে তাদের সদস্য করে নিচ্ছে। তাদের প্রচার প্রচারণায় এলাকায় বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার বিলি করছে। রাতের বেলায় তাদের বাড়িতে গোপনীয় বৈঠক বসে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে। এর আগে নুরুল হকের বাড়িতে হিযবুত তাওহীদের সদস্যরা শহীদি জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। এ মসজিদের নাম নিয়ে এলাকায় বিতর্ক রয়েছে। মসজিদে তাদের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে নামাজ আদায় করতে দেয়া হয় না বলে গ্রামবাসী জানায়।

 

"