নুসরাত হত্যা : আসামি হচ্ছে ১৬ জন

২৭ মে’র মধ্যেই চার্জশিট

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের ২৭ তারিখের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আলামত, জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের সঙ্গে ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। পিবিআই সূত্রে জানায়, অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যায় অংশ নিয়েছে। আলামতের ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। সূত্রমতে, নুসরাতকে হয়রানিমূলকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ভিডিও চিত্র অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোনাগাজীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এদিকে আগামী ২৭ মে আদালতের নির্দেশে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।

ওই দিনের মধ্যেই সব তদন্ত শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিবিআই।

ফেনী পিবিআই সূত্র জানায়, আইসিটি আইনে ওসির বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার তারিখ ২৭ মে। ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্ধারিত দিনেই প্রতিবেদন দেওয় হবে। নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১২ জনের জবানবন্দি আছে। ঘটনার আগে-পরে যারা মদদ জুগিয়েছে তারাও যাতে শাস্তি পায় সেসব বিষয় উপস্থাপন করেই চার্জশিট দেওয়া হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলার নাম এসেছে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে। তা বাস্তবায়নে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাত্র জড়িত। তাদের মধ্যে যারা সরাসরি রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে, চার্জশিটে তাদেরই নাম থাকবে প্রথমে। এরপর থাকবে সহায়তাকারীদের নাম। শেষদিকে নাম থাকছে সিরাজ ও তার অনুসারীদের সহায়তাকারীর। গত ২৭ মার্চ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেছিলেন রাফির মা। এতে পুলিশ সিরাজকে গ্রেফতার করেছিল। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে রাফিকে সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় সিরাজের সহযোগীরা।

৮ এপ্রিল রাফির ভাই মামলা করেন সিরাজকে প্রধান আসামি করে। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রাফির মৃত্যু হয়। হত্যার ধারায় যুক্ত মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। আসামিদের মধ্যে সিরাজ, পপি, জাবেদ, জোবায়ের, নূরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামিম, মনি, শরিফ, রানা, মামুন, শাকিল ও আবদুল কাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে চারজন সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়ার কথা জানায়।

 

"