ম্যাজিস্ট্রেট সরলেই মুরগির দাম ৩০ টাকা বেশি!

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে এখন দেশি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৪২০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। দোকানে দোকানে এর মূল্যতালিকাও টানানো আছে। কিন্তু মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম মূল্য তালিকা উল্টে রেখে মুরগি বিক্রি করছিলেন ৪৫০ টাকায়। তাই জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাফে মো. ছড়া ও সুকান্ত সাহা বাজারের অন্য দোকানগুলোতে গেলে আসাদুল আবার ৪৫০ টাকা দরে মুরগি বিক্রি শুরু করেন। উল্টে রাখেন মূল্য তালিকাও। বিষয়টি নজরে এলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে আবার সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন। সোমবার দুপুরে জেলা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিটির বাজার মনিটরিংয়ের সময় এ ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় দফায় জরিমানার সময় ম্যাজিস্ট্রেট রাফে মো. ছড়া মুরগি বিক্রেতা আসাদুলের কাছে জানতে চান, মূল্য তালিকা উল্টানো কেন। আসাদুল বলেন, বাতাসে উল্টে গেছে। তখনই একজন ক্রেতা এসে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, এই মাত্রই তার কাছে ৪৫০ টাকা দরে মুরগি বিক্রি করা হয়েছে। তখন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুলকে দ্বিতীয়বারের মতো জরিমানা করেন। এ সময় ওই মুরগি ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরতও দিতে হয় বিক্রেতা আসাদুল ইসলামকে।

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিতই বাজার মনিটরিং করছে জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে মনিটরিংয়ে অংশ নেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের। পরে তিনি দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে রেখে চলে যান। দুই ম্যাজিস্ট্রেটের এই ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দিন মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

এর মধ্যে সাহেববাজারের ‘শিবগঞ্জ সুইটস’ নামের একটি মিষ্টির দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দোকানটির দইয়ের পাত্রে প্রস্তুত ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা ছিল না। এ ছাড়া উন্মুক্ত পরিবেশে জিলাপি তৈরি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অন্যান্য খাবার সংরক্ষণ করেছিল শিবগঞ্জ সুইটস।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, রমজান এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তা ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারসামগ্রী তৈরি করা হয়। এসব যেন না হয় তার জন্য তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। পুরো রমজানেই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

"