রমজানে সরব, ১১ মাস নীরব!

সিলেটে বছরজুড়ে ভেজাল খাবার

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

তুহিন আহমদ, মহানগর (সিলেট)

সিলেটে বছরজুড়ে ভেজাল খাবারে বাজার সয়লাব থাকলেও শুধুমাত্র রমজান মাসেই ভেজালবিরোধী অভিযান চলে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বাকি ১১ মাস শুধুমাত্র ঝটিকা অভিযানের মধ্যেই পার হয়। এসব অভিযানে ন্যূনতম একটি জরিমানা আদায় করেই অভিযান শেষ হয়। রমজানে বিভিন্ন সংস্থার অভিযান প্রশংসিত হলেও প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সারা বছরই ভেজাল খাবারে বাজার সয়লাব থাকে। তাহলে শুধু রমজানে কেন ঢালাওভাবে অভিযান। সারাটা বছর এভাবে অভিযান থাকলে ভেজাল খাবারের হাত থেকে নগরবাসী রক্ষা পেত। তবে জেলা প্রশাসন বলছেন, ভেজালবিরোধী অভিযান সারা বছরই পরিচালনা করা হয়। সিলেটে রমজানের আগ থেকেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)-৯ ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নেতারা।

রোজা শুরুর প্রথম দিনই সাড়ে ১২টন পচা খেজুর জব্দ করে সেগুলো ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয়। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখা, বেশি দামে পণ্য বিক্রি করাসহ বেশ কয়েকটি সুপারশপকে ছোট ও বড় ধরনের জরিমানা করা হয়। তাদের এই অভিযানের কারণে পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়তই আমরা কি খাচ্ছি। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে নামি ব্র্যান্ডের খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানেও মিলছে ভেজাল। বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভেজাল খাবারে পুরো সয়লাব হয়ে পড়েছে সিলেট।

সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়াউল হক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, রমজান মাসে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ী এর দাম বাড়িয়ে দেন। তাই দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সারা বছর দাম না বাড়লেও খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি থেকে যায়। ভেজালের বিরুদ্ধে জরিমানায় কাজ হবে না, মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা আক্তার বলেন, ‘সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারা বছরই এই ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হয়ে থাকে। তবে রমজান মাসে যেহেতু সব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে তাই ভেজালের প্রবণতাও বেশি থাকে। সেজন্য রমজান মাসে ভেজালবিরোধী অভিযানে বেশি নজর দেওয়া হয়। তাছাড়া সারা বছরই যেন গুরুত্বসহকারে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হয়ে থাকে সেই ব্যাপারে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের পাশের ফল বাজারে অভিযানে পচা খেজুর রাখার দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিনে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টের স্বাদ ও রাজমহলের শাখায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ও প্রসাধনী সামগ্রী রেখে তা বিক্রির দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেটে খাদ্যে ভেজাল ও বাজারে পণ্যমূল নিয়ন্ত্রণে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমনকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাজার মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো পাঁচটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, মূলত শুধুমাত্র রমজান মাসের জন্য না পুরো বছরই এই অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। কারণ সারা বছরইতো বাজারে ভেজাল খাদ্য থাকে। সিলেট চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমেদ বলেন, ‘আমার মনে হয় শুধুমাত্র পণ্য জব্দ আর জরিমানা করে কাজ হবে না, এসবের পাশাপাশি জেলও দিতে হবে।

"