মাশরাফিকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নড়াইলের এমপি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।’ সংসদ সদস্য মাশরাফি গত ২৫ এপ্রিল আকস্মিকভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাজিরা খাতায় তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে তিনি দুজন চিকিৎসককে ফোন করে কথা বলেন।

ওই কথোপকথনে মাশরাফির বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক চিকিৎসক ফেসবুকে মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ফেসবুকে কটূক্তি করা ছয় চিকিৎসককে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সে প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, মাশরাফিকে এ দেশের মানুষ একজন হিরো ও দেশপ্রেমিক যোদ্ধা বলে মনে করে। শুধু একজন ভালো ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মাশরাফির ভেতরে যে চেতনা, সাতবার অস্ত্রোপচারের পরেও সে যেভাবে অসম্ভব শারীরিক কষ্ট সহ্য করে খেলে।

এই যে ধৈর্য, সহ্য, দেশপ্রেম সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফি। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নড়াইল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিপুল ভোটে জিতেছেন। দেশের যেকোনো জায়গায় দাঁড়ালে নির্বাচিত হবেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সভাপতি থাকেন সংসদ সদস্য। তিনি সভাপতি হিসেবে গেছেন, রোগীদের কষ্টের কথা শুনেছেন। ডাক্তার সাহেবদের ওই মুহূর্তে পাননি। যাকে পাননি নম্বর নিয়েছেন, কথা বলেছেন। কিছু কথার মধ্যে হয়তো একটু ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তার সাহেবরা এ বিষয় নিয়ে তাকে (মাশরাফি) খুব বেশি রকম আক্রমণ করা, এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শুধু একজন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় না, সংসদ সদস্যও বটে। সংবিধানে তার মর্যাদা অনেক।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। মানুষের সেবা করা আমাদের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। হ্যাঁ মাশরাফি ভাই বলেছে আমাকে ওইভাবে বলতে হবে কেন?

মাশরাফির সঙ্গে তো আমাদের ডাক্তারদের কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই। মাশরাফির মতো মানুষ যদি একটা কথা বলেই ফেলে, যদি আমার কাছে ঠিক মনে নাও হয়। আমি কোনো দিনই ওইভাবে এটার প্রতিবাদ করতাম না।

ডা. মুরাদ হাসান বলেন, আমরা সেবা করব মানুষের। সেবা করতে গিয়ে যদি আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করি, অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলি এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এটার জন্য তাদের শোকজ করা হয়েছে। সমাধান আমরা বের করব। তাদের সতর্ক হতে হবে, সংশোধন হতে হবে। সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে এভাবে কেন লিখবে? তাদের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। একজন চিকিৎসক সবচেয়ে মেধাবী। তাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তারা আরো অনেক ধৈর্যশীল সহ্যশীল হবেন এটাই আমাদের আশা।

"