খানা-সমীক্ষার ফল

উল্লাপাড়ায় বদলে যাচ্ছে চিরচেনা কৃষক-জীবন

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অকৃষি পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। জানা গেছে এলাকায় মোট পরিবারের সংখ্যার মধ্যে প্রায় ২৯ ভাগই অকৃষি পরিবার। আর ভূমিহীন কৃষক পরিবার সংখ্যা ৩৪ ভাগ। এ দিকে কৃষক পরিবারের অনেকেই এখন আর শুধু কৃষি কাজ নিয়ে এ পেশায় থাকছে না। তারা শুধু কৃষির ওপর ভর করে আর টিকতে পারছে না। বদলে যাচ্ছে চিরাচরিত কৃষক-জীবন।

উপজেলা কৃষি অফিসের খানা-সমীক্ষা সূত্রে জানা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলায় মোট পরিবার সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৪টি। এর মধ্যে অকৃষি পরিবার সংখ্যা ৪০ হাজার ১৫৯টি। যার শতকরা হিসাবে ২৯ দশমিক ৩৬ ভাগ অকৃষি পরিবার। শহর এলাকাতেই বেশি সংখ্যক অকৃষি পরিবারের বসবাস বলে জানা যায়। এরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত আছেন। এর মধ্যে মাঝারি মানে ব্যবসা ও দৈনন্দিন আয়ের বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। এদিকে মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৫৮৫টি। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক পরিবার ৪৬ হাজার ১৪৫টি, যা কৃষক পরিবারের ৪৭ দশমিক ৭৭ ভাগ। এছাড়া প্রান্তিক কৃষক পরিবার ২৭ হাজার ৭৮৭টি, ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার ১৩ হাজার ৩৮৫টি, মাঝারি কৃষক পরিবার ৮ হাজার ১৩৩টি ও সাড়ে সাত একরের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক পরিবার ১ হাজার ১৩৫টি বলে জানা যায়। বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের লোকজন এখন আর শুধু কৃষি পেশাতেই থাকছে না। এরা কৃষির পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। যখন আবাদি মাঠে কাজ কম থাকে তখন অনেকেই মাটিকাটা, বালু ট্রলারের কাজ করতে বিভিন্ন এলাকায় যান। সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের অকৃষি পরিবারের মো. শহিদুল ইসলাম এক সময় রিকশাচালক ছিলেন। এখন তিনি নিজ বাড়িতে একটি মুদি দোকান চালান। তার দুই সন্তান কাঠমিস্ত্রি পেশায় জড়িত বলে জানা যায়। বাখুয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের মো. আবু বক্কার এখন স্থানীয় বাজারে একটি দোকান চালান। তার সন্তানদের একজন শুধু কৃষি পেশায় আছেন। অপর সন্তানদের একজন ইলেকট্রিশিয়ান, আরেকজন ব্যবসা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খিজির হোসেন প্রামাণিক জানান, গ্রাম ও শহরের অকৃষি পরিবারের বেশি সংখ্যক লোকজন বিভিন্ন পেশায় কাজ করে থাকেন। কৃষি পরিবারের লোকজন যখন মাঠে কাজ থাকছেন তখন মাঠের কাজ করছেন। আবার কাজ না থাকলে অন্য পেশায় কাজ করছেন।

 

"