খুন করে লাশ নদীতে ফেলতে গিয়ে ধরা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চালককে খুনের পর প্রাইভেট কারে করে লাশ সাগরে ফেলতে গিয়ে ধরা পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ তিন যুবক। এলাকাবাসী তাদের আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

আটকরা হলেনÑ রবিউল হোসেন ইমন, জিসান ও নেওয়াজ। গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন কাট্টলী ঘোষবাড়ি শনি মন্দির এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খুন হওয়া চালকের নাম নুরুল গনি শিমুল। তিনি জেলার সীতাকুন্ডের আমিরাবাদ এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে আকবর শাহ থানার পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে একটি প্রাইভেট কার মহাসড়ক থেকে পশ্চিমে কাট্টলী রোড দিয়ে উত্তর কাট্টলী বেড়িবাঁধের দিকে যাওয়ার সময় শনি ঠাকুরবাড়ী (ঘোষবাড়ি মন্দির) এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এলাকাবাসী সহযোগিতার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে প্রাইভেট কারের পেছনের সিটের নিচে এক যুবকের লাশ পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে কারের তিন আরোহীর কাছে জানতে চাইলে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তারা গাড়ি ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন যুবককে ধরে গণপিটুনি দেন।

খবর পেয়ে মধ্যরাতে আকবর শাহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং গণপিটুনিতে আহত তিন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহত যুবক এবং গণপিটুনিতে আহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিবুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, এক ব্যক্তিকে হত্যার পর প্রাইভেট কারে করে সমুদ্রে তার মরদেহ ফেলতে যাচ্ছিলেন তিন তরুণ। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি বলেন, এ সময় দুজন পালিয়ে যান। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, চমেকে এক রোগীকে রক্ত দেওয়ার কথায় সীতাকুন্ড থেকে চারজন প্রাইভেট কারটি ভাড়া করেন। এরপর তারা গাড়িতে উঠে চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশটি সাগরে ফেলতে তারা কাট্টলির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনজন স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। একজন পালিয়ে গেছেন। গতকাল দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

"