আইনজীবী অসুস্থ

ফের পেছাল রেইনট্রি ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসামিপক্ষের আইনজীবী অসুস্থ থাকার কারণে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ফের পিছিয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল সোমবার মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক খাদেম উল কায়েস পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন করে দিন ঠিক করে দেন। এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ধর্ষণের শিকার এক শিক্ষার্থী আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। ওই দিন আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের আইনজীবী এ বি এম খায়রুল ইসলাম লিটন অসুস্থতার কারণে ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পিছিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের শিকার আরেক তরুণীকে জেরা করা হয়। ওইদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের জামিন বাতিল করেন আদালত। একইসঙ্গে সাফাত আহমেদের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর সাফাতের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন একই ট্রাইব্যুনাল। এর আগে বিভিন্ন সময় ধর্ষণের সহযোগী আসামি সাফাত আহমেদের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং বন্ধু সাদমান সাকিব হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। ২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৩ জুলাই একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ওই বছরে ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অন্য আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ আসামি সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেওয়া হয় বাদী, তার বান্ধবী ও বন্ধুকে। তাদের রাত ৯টা থেকে পর দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

আসামি সাদমান সাকিফকে ২ বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়।

"